মাসি পিসি গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ PDF)
প্রিয় পাঠক, আজকে আমি আপনাদের সাথে মাসি পিসি গল্পের (MCQ) গুলো বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরবো। আশা করি আপনি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আপনি যদি এই পোস্টটি পুরো মনোযেগা সহকারে পড়েন তাহলে মাসি পিসি গল্পের (MCQ) গুলো বিস্তারিত জানতে পারবেন। প্রিয় পাঠক, চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।মাসি-পিসি গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় কলকাতার পূর্বশা পত্রিকায় ১৩৫২ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায় (মার্চ-এপ্রিল ১৯৪৬)। পরে এটি সংকলিত হয় পরিস্থিতি (অক্টোবর ১৯৪৬) নামক গল্পগ্রন্থে। বর্তমান পাঠ গ্রহণ করা হয়েছে ঐতিহ্য প্রকাশিত মানিক-রচনাবলি পঞ্চম খণ্ড থেকে। স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পিতৃমাতৃহীন এক তরুনীর করুণ জীবনকাহিনি নিয়ে রচিত হয়ছে মাসি-পিসি গল্প। আহ্লাদি নামক ওই তরুণীর মাসি ও পিসি দুজনেই বিধবা ও নিঃস্ব।
আরো পড়ুন: অপরিচিতা গল্পের (MCQ)
তারা তাদের অস্তিত্বরক্ষার পাশাপাশি বিরুপ বিশ্ব থেকে আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য যে বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সংগ্রাম পরিচালনা করে সেটাই গল্পটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। অত্যাচারী স্বামী এবং লালসা-উন্মত্ত জোতদার, দারোগা ও গুন্ডা-মদমাশদের আক্রমণ থেকে আহ্লাদিকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে অসহায় দুই বিধবার দায়িত্বশীল ও মানবিক জীবন যুদ্ধ খুবই প্রশংসনীয়। দুর্ভিক্ষের মর্মস্পর্শী স্মৃতি, জীবিকা নির্বাহের কঠিন সংগ্রাম, নারী হয়ে নৌকা চালানো ও সবজির ব্যবসা পরিচালনা প্রভৃতি এ গল্পের বৈচিত্রময় দিক।
মূল গল্প
শেষবেলায় খালে এখন পুরো ভাটা। জল নেমে গিয়ে কাদা আর ভাঙা ইটপাটকেল ও ওজনে ভারি আবর্জনা বেরিয়ে পড়েছে। কংক্রিটের পুলের কাছে খালের ধারে লাগানো সালতি থেকে খড় তোলা হচ্ছে পাড়ে। পাশাপাশি জোড়া লাগানো দুটো বড় সালতি বোঝাই আঁটিবাঁধা খড় তিনজনের মাথায় চড়ে গিয়ে জমা হচ্ছে ওপরের মস্ত গাদায়। ওঠানামার পথে ওরা খড় ফেলে নিয়েছে কাদায়। সালতি থেকে ওদের মাথায় খড় তুলে দিচ্ছে দুজন। একজনের বয়স হয়েছে, আধাপাকা চুল, রোগা শরীর। অন্যজন মাঝবয়সী, বেঁটে, জোয়ান, মাথায় ঠাসা কদমছাঁটা রুক্ষ চুল।
পুলের তলা দিয়ে ভাটার টানা ঠেলে এগিয়ে এল সরু লম্বা আরেকটা সালতি, দু-হাত চওড়া হয়নি না হয়। দু-মাথায় দাঁড়িয়ে প্রৌঢ়া বিধবা লগি ঠেলছে, ময়লা মোটা থানের আঁচল দুজনেরই কোমরে বাঁধা। মাঝখানে গুটিসুটি হয়ে বসে আছে অল্পবয়সী একটি বৌ। গায়ে জামা আছে, নকশা পাড়ের সস্তা সাদা শাড়ি। আঁটসাঁট থমথমে গড়ন, গোলগাল মুখ। মাসি-পিসি ফিরছে কৈলাশ, বুড়ো লোকটি বলল। কৈলাশ বাহকের মাথায় খড় চাপাতে ব্যস্ত ছিল। চটপট শেষ আঁটিটা চাপিয়ে দিয়ে সে যখন ফিরল, মাসি-পিসির সালতি দু-হাতের মধ্যে এসে গেছে। ‘‘ও মাসি, ওগো পিসি, রাখো রাখো। খপর আছে শুনে যাও।’’
সামনের দিকে লগি পুঁতে মাসি-পিসি সালতির গতি ঠেকায়, আহ্লাদি সিঁথির সিঁদুর পর্যন্ত ঘোমটা টেনে দেয়। সামনে থেকে বিরক্তির সঙ্গে বেলা আর নেই কৈলাশ। পেছনে থেকে পিসি বলে, অনেকটা পথ যেতে হবে কৈলাশ। মাসি-পিসির গলা ঝরঝরে, আওয়াজ একটু মোটা, একটু ঝংকার আছে। কৈলাশের খবরটা গোপন, দুজনে লম্বা লম্বা সালতির দু-মাথায় থাকলে সম্ভব নয় চুপে চুপে বল। মাসি বড় সালতির খড় ঠেকানো বাঁশটা চেপে ধরে থাকে, পিসি লগি হাতে নিয়েই পিছন থেকে এগিয়ে আসে সামনের দিকে। আহ্লাদি যেখানে ছিল সেখানে বসেই কান পেতে রাখে। কথাবার্তা সে সব শুনতে পায় সহজেই। কারণ, সে যাতে শুনতে পায় এমনি করেই বলে কৈলাশ।
বলি মাসি, তোমাকেও বলি পিসি, কৈলেশ শুরু করে, মেয়াকে একদম শ্বশুর ঘর পাঠাবে না মনে করেছ যদি, সে কেমন ধারা কথা হয়? এত বড় সোমত্ত মেয়া, তোমরা দুটি মেয়েলোক বাদে ঘরে একটা পুরুষমানুষ নেই, বিপদ-আপদ ঘটে যদি তো। মাসি বলে, খপরটা কী তাই কও। বেলা বেশি নেই কৈলাশ। মাসি-পিসির সাথে পারা যাবে না জানে কৈলাশ। অগত্য ফেনিয়ে রসিয়ে বলবার বদলে সে সোজা কথায় আসে, ‘জগুর সাথে দেখা হলো কাল। খড় তুলে দিতে সাঁঝ হয়ে গেল, তা দোকানে এটটু-মানে আর কি চা খেতে গেছি চায়ের দোকানে, জগুর সাথে দেখা।’
মাসি বলে, ‘চায়ের দোকান না কিসের দোকান তা বুঝিছি কৈলেশ, তা কথাটা কি?’ পিসি বলে ‘সেথা ছাড়া আর ওকে কোথা দেখবে। হাতে দুটো পয়সা এলে তোমারও স্বভাব বিগড়ে যায় কৈলেশ। তা, কী বললে জগু?’ কৈলাশ ফাঁপড়ে পড়ে আড়চোখে চায় আহ্লাদির দিকে, হঠাৎ বেমক্কা জোরের সঙ্গে প্রতিবাদ করে যে, তা নয়, পুলের কাছেই চায়ের দোকান, মাসি-পিসি গিয়ে জিজ্ঞাসা করুক না সেখানে। তারপরেই জোড় হারিয়ে বলে, ‘ওসব একরকম ছেড়ে দিয়েয়ে জগু। লোকটা কেমন বদলে গেছে মাসি, সত্যি কথা পিসি, জগু আর সেই জগু নেই। বৌকে নিতে চায় এখন। তোমরা নাকি পণ করেছ মেয়া পাঠাবে না, তাতেই চটে আছে। সম্মান তো আছে একটা মানুষের, কবার নিতে এল তা মেয়া দিলে না, তাই তো নিতে আসে না আর। আমি বলি কি, নিজের যেচে এবার পাঠিয়ে দাও মেয়াকে।
মাসি বলে, ‘পেটে শুকিয়া লাথি ঝাঁটা খেতে? কলকেপোড়া ছ্যাঁকা খেতে? খুঁটির সাথে দড়িবাঁধা হয়ে থাকতে দিনভর রাতভর? পিসি বলে, মেয়া না পাঠাই, জামাই এলে রাখিনি জামাই-আদরে তাকে? ছাগলটা বেচে দিয়ে খাওয়াইনি ভালোমন্দ দশটা জিনিস? মাসি বলে, ফের আসুক, আদরে রাখব যদ্দিন থাকে। বজ্জাত হোক, খুনে হোক জামাই তো। ঘরে এলে খাতির না করব কেন? তবে মেয়া মোরা পাঠাব না।’ বুড়ো রহমান একা খড় চাপিয়ে যায় বাহকদের মাথায়, চুপচাপ শুনে যায় এদের কথা। ছলছল চোখে একবার তাকায় আহ্লাদির দিকে। তার মেয়েটা শ্বশুরবাড়িতে মরেছে অল্পদিন আগে। কিছুতে যেতে চাননি মেয়েটা, দাপাদাপি করে কেঁদেছে যাওয়া ঠেকাতে, ছোট অবুঝ মেয়ে। তার ভালোর জন্যই তাকে জোর-জবরদস্তি করে পাঠিয়ে দিয়েছিল। আহ্লাদির সঙ্গে তার চেহারায় কোনো মিল নাই। বয়সে সে ছিল অনেক ছোট, চেহারা ছিল অনেক বেশি রোগা। তবু আহ্লাদির ফ্যাকাশে মুখে তারই মুখের ছাপ রহমান দেখতে পায়, খড়ের আঁটি তুলে দেবার ফাঁকে ফাঁকে যখনই সে তাকায় আহ্লাদির দিকে।
কৈলাশ বলে, ‘তবে আসল কথাটা বলি। জগু মোকে বললে, এবার সে মামলা করবে বৌ নেবার জন্য। তার বিয়ে করা বৌকে। তোমরা আটকে রেখেছ বদ মতলবে। মামলা করলে বিপদে পড়বে। সোয়ামি নিতে চাইলে বৌকে আটকে রাখার আইন নেই। জেল হয়ে যাবে তোমাদের। আর যেমন বুঝলাম, মামলা জগু করবেই আজকালের মধ্যে। মরবে তোমরা জান মাসি, জান পিসি, মারা পড়বে তোমরা একেবারে। আহ্লাদি একটা শব্দ করে, অস্ফুট আর্তনাতের মতো। মাসি ও পিসির মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে কয়েকবার। মনে হয়, মনে তাদের একই কথা উদয় হয়েছে, চোখে চোখে চেয়ে সেটা শুধু জানাজানি করে নিল তারা। মাসি বলল, ‘জেলে নয় গেলাম কৈলেশ, কিন্তু মেয়া যদি সোয়ামির কাছে না যেতে চায় খুন হওয়ার ভয়ে?
বলে মাসি বড় সালতির খড় ঠেকানো বাঁশ ছেড়ে দিয়ে লগি গুঁজে দেয় কাদায়, পিসি তরতর করে পিছনে গিয়ে লগি কাদায় গুঁজে হেলে পড়ে, শরীরের ভারে সরু লম্বা সালতিটাকে এগিয়ে দেয়, ভাটার টানের বিপক্ষে।
বেলা একরকম নেই। ছায়া নামছে চারদিকে। শকুনরা উড়ে এসে বসছে পাতাশূন্য শুকনো গাছটায়। একটা শকুন উড়ে গেল এ আশ্রয় ছেড়ে অল্প দূরে আরেকটা গাছের দিকে। ডাল ছেড়ে উড়তে আর নতুন ডালে গিয়ে বসতে কী আর পাখা ঝাপটানি। মায়ের বোন মাসি আর বাপের বোন পিসি ছাড়া বাপের ঘরের কেউ নেই আহ্লাদির। দুর্ভিক্ষ কোনোমতে ঠেকিয়েছিল তার বাপ। মহামারীর একটা রোগে, কলেরায়, সে তার বৌ আর ছেলেটা শেষ হয়ে গেল। মাসি-পিসি তা আশ্রয়ে মাথা গুঁজে আছে অনেকদিন, দূর সাই সয়ে আর কুড়িয়ে পেতে খেয়ে নিরাশ্রয় বিধবারা যেমন থাকে।
নিজেদের ভরণপোষণের কিছু তারা রোজগার করত ধান ভেনে, কাঁথা সেলাই করে, ডালের বড়ি বেচে, হোগলা গেঁথে, শাকপাতা ফলমূল ডাঁটা কুড়িয়ে, এটাওটা জোগাড় করে। শাকপাতা খুদকুঁড়ো ভোজন, বছরে দুজনের, রূপোর টাকা আধুলি সিকি। দুর্ভিক্ষের সময়টা বাঁচবার জন্য তাদের লড়তে হয়েছে সাংঘাতিকভাবে, আহ্লাদির বাপ তাদের থাকটা শুধু বরাদ্দ রেখে খাওয়া ছাঁটাই করে দিয়েছিল একেবারে পুরোপুরি। তারও তখন বিশম অবস্থা। নিজেরা বাঁচে কি বাঁচে না, তার ওপর জগুর লাথির চোটে মরমর মেয়ে এসে হাজির। সে কোনদিক সামলাবে? মাসি-পিসির সেবা যত্নেই আহ্লাদি অবশ্য সেবার বেঁচে গিয়েছিল, তার বাপ মাও সেটা স্বীকার করেছে।
কিন্তু কী করবে, গলা কেটে রক্ত দিয়ে সে ধার শোষ করা যদি সম্ভব হয়, অন্ন দেওয়ার ক্ষমতা কোথায় পাবে। পাল্লা দিয়ে মাসি-পিসি আহ্লাদির জীবনের জন্য লড়েছিল, পেল যদি তো খেয়ে না-পেল যদি তো না-খেয়েই। অবস্থা যখন তাদের অতি কাহিল, চারদিকে না-খেয়ে মরা শুরু করেছে মানুষ, মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি, একদিন মাসি বলে পিসিকে, ‘একটা কাজ করবি বেয়াইন? তাতেও তোরও দুটো পয়সা আসে, মোরও দুটো পয়সা আসে। শহরের বাজারে তরিতরকারি ফলমূলের দাম চড়া। গাঁ থেকে কিনে যদি বাজারে গিয়ে বেচে আসে তারা, কিছু রোজগার হবে। একা মাসির ভরসা হয় না সালতি বেয়ে অতদূর যেতে, যাওয়া-আসাও একার দ্বারা হবে না তার। পিসি রাজি হয়েছিলো। এতে কিছু হবে কি না হবে ভগবান জানে, কিন্তু যদি হয় তবে রোজগারের একটা নতুন উপায় মাসি পেয়ে যাবে আর সে পাবে না, তাকে না পেলে অন্য কারো সাথে হয়ত মাসি বন্দোবস্ত করবে, তা কি পাবে পিসি ঘটতে দিতে।
সেই দিন থেকে শুরু হয় গেরস্তের বাড়তি শাকসবজি ফলমূল নিয়ে মাসি-পিসির সালতি বেয়ে শহরের বাজারে গিয়ে বেচে আসা। গাঁয়ের বাবু বাসিন্দারাও নগদ পয়সার জন্য বাগানের জিনিস বেচতে দেয়। মাসি-পিসির ভাব ছিল আগেও। অবস্থা এক, বয়স সমান, একঘরে বাস, পরস্পরের কাছে ছাড়া সুখ-দুঃখের কথা তারা কাকেই-বা বলবে, কেই-বা শুনবে। তবে হিংসা দ্বেষ রেষারেষিও ছিল যথেষ্ঠ, কোন্দালও বেধে যেত কারণে অকারণে। পিসি এ বাড়ির মেয়ে, এ তার বাপের বাড়ি। মাসি উড়ে এসে জুড়ে বসেছে এখানে। তাই মাসির উপর পিসির একটা অবজ্ঞা অবহেলার ভাব ছিল। এই নিয়ে পিসির অহংকার আর খোঁচাই সবচেয়ে অসহ্য লাগত মাসির। ধীর শান্ত দুঃখী মানুষ মনে হতো এমনি তাদের, কিন্তু ঝগড়া বাধলে অবাক হয়ে যেতে হতো তাদের দেখে। সে কী রাগ, সে কী তেজ, সে কী গোঁ। মনে হতো এই বুঝি কাপড়ে দেয় একে অপরকে, এই বুঝি কাটে বঁটি দিয়ে।
শাকসবজি বেচে বাঁচবার চেষ্টায় একসঙ্গে কোমর বেঁধে নেমে পড়ামাত্র সব বিরোধ সব পার্থক্য উড়ে গিয়ে দুজনের হয়ে গেল। একমন, একপ্রাণ। সে মিল জমজমাট হয়ে উঠল আহ্লাদির ভার ঘাড়ে পড়ায়। নিজের পেট ভরানো শুধু নয়, নিজেদের বেঁচে থাকা শুধু নয়, তাদের দুজনেরই এখন আহ্লাদি আছে। খাইয়ে পরিয়ে যত্নে রাখতে হবে তাকে, শ্বশুরঘরের কবল থেকে বাঁচাতে হবে তাকে, গাঁয়ের বজ্জাতদের নজর থেকে সামলে রাখতে হবে, কত দায়িত্ব তাদের, কত কাজ কত ভাবনা। বাপ মা বেঁচে থাকলে আহ্লাদিকে হয়ত শ্বশুরবাড়ি যেতে হতো, মাসি-পিসিও বিশেষ কিছু বলতো কি না সন্দেহ। কিন্তু তারা তো নেই, এখন মাসি-পিসিরই সব দায়িত্ব। বিনা পরামর্শে আপনা থেকেই তাদের ঠিক হয়েছিলো, আহ্লাদিকে পাঠানো হবে না। আহ্লাদিকে কোথাও পাঠানোর কথা তারা ভাবতেও পারে না। বিশেষ করে ওই খুনেদের কাছে কখনো মেয়ে তারা পাঠাতে পারে, যাবার কথা ভাবলেই মেয়ে যখন আতঙ্কে পাঁশুটে মেরে যায়?
বাপের ঘর দুয়ার জমিজমাটুকু আহ্লাদিকে বর্তেছে, জগুর বৌ নেবার আগ্রহও খুবই স্পষ্ট। সামন্যই ছিল তার বাপের, তারও সিকিমতো আছে মোটে, বাকি গেছে গোকুলের কবলে। তবু মুফতে যা পাওয়া যায় তাতেই জগুর প্রবল লোভ। খালি ঘরে আহ্লাদিকে রেখে কোথাও যাবার সাহস তাদের হয় না। দুজনে মিলে যদি যেতে হয় কোথাও আহ্লাদিকে তারা সঙ্গে নিয়ে যায়। মাসি বলে, ‘ডরাসনি আহ্লাদি। ভাঁওতা দিয়ে আমাদের দমাবার ফিকির সব। নয় তো কৈলেশকে দিয়ে ওসব কথা বলায় মোদের?
পিসি বলে, ‘দুদিন বাদে ফের আসবে দেখিস জামাই। তখন শুধোলে বলবে, কই না, আমি তো ওসব কিছু বলি নি কৈলেশকে।’ মাসি বলে ‘চার মাসে পড়লি, আর কটা দিন বা। মা-মাসির কাছেই রইতে হয় এ সময়টা জামাই এলে বুঝিয়ে বলব।’ পিসি বলে, ‘ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়, জানিস আহ্লাদি। তোর পিসে ছিল জগুর মতো। খোকাটা কোলে আসতে কী হয়ে গেল সেই মানুষ। চুপি চুপি এসে ওটা খাওয়ায়, উঠতে বলি তো ওঠে, বসতে বলি তো বসে। মাসি বলে, ‘তোর মেসো ঠিক ছিল, শাউড়ি ননদ ছিল বাঘ। উঠতে বসতে কী ছ্যাঁচা খেয়েছি ভাবলে বুক কাঁপে। কিন্তু জানিস আহ্লাদি, মেয়েটা যেই কোলে এল শাউড়ি ননদ যেন মোকে মাথায় করে রাখলে বাঁচে।, পিসি বলে, তুইও যাবি, সোয়ামির ঘর করবি। ডরাসনি, ডর কিসের? বাড়ি ফিরে দীপ জ্বেলে মাসি-পিসি রান্নাবান্না সারতে লেগে যায়। বাইরে দিন কাটলেও আহ্লাদির পরিশ্রম কিছু হয়নি, শুয়ে বসেই দিন কেটেছে। তবু মাসি-পিসি কথায় সে একটু শোয়। শরীর নয়, মনটা তার কেমন করছে। নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।
মাসি-পিসির আড়ালে থেকেও সে টের পায় কীভাবে মানুষের পর মানুষ তাকাচ্ছে তার দিকে, কতজন কতভাবে মাসি-পিসির সঙ্গে আলাপ জমাচ্ছে তরিতরকারির মতো তাকেও কেনা যায় কিনা যাচাই করার জন্য। গাঁয়েরও কতজন তার কত রকমের দর দিয়েছে মাসি-পিসির কাছে। মাসি-পিসিকে চিনে তারা অনেকটা চুপচাপ হয়ে গেছে আজকাল, কিন্তু গোকুল হাল ছাড়েনি। মাসি-পিসিকে পাগল করে তুলেছে গোকুল। রান্না সেরে খাওয়ার আয়োজন করছে মাসি-পিসি, একেবারে ভাতটাত বেড়ে আহ্লাদিকে ডাকবে। ভাগাভাগি কাজ তাদের এমন সহজ হয়ে গেছে যে বলাবলির দরকার তাদের হয় না, দুজনে মিলে কাজ করে যেন একজনে করছে। বলাবলি করছে তারা আহ্লাদির কথা, আহ্লাদির সুখদুঃখ, আহ্লাদির সমস্যা, আহ্লাদির ভবিষ্যৎ। জামাই যদি আসে একটি কড়া কথা তাকে বলা হবে না, এতটুকু খোঁচা দেওয়া হবে না। উপদেশ দিতে গেলে চটবে জামাই, পুরুষমানুষ তো যতই হোক, এটা করা উচিত নয়, এসব কিছু বলা হবে না তাকে।
জামাই এসেছে তাই আনন্দ রাখবার ঠাঁই নেই এই ভাব দেখাবে মাসি-পিসি আহ্লাদিকে শিখিয়ে দিতে হবে সোয়ামি এসেছে বলে যেন আহ্লাদে গদগদ হবার ভাব দেখায়। যে কতদিন থাকে জামাই, সে যেন অনুভব করে, সেই এখানকার কর্তা। হঠাৎ বাহিরে থেকে ডাক আসে কানাই চৌকিদারের। মাসি-পিসি পরস্পরের মুখের দিকে তাকায়, জোরে নিঃশ্বাস পড়ে দুজনের। সারাটা দিন গেছে লড়ে আর লড়ে। সরকারবাবুর সঙ্গে বাজারের তোলা নিয়ে ঝগড়া করতে অর্ধেক জীবন বেরিয়ে গেছে দু-জনের। এখন এল চৌকিদার কানাই। রসুই চালাই ঝাঁপ এঁটে মাসি-পিসি বাইরে যায়। কানাই বলে, ‘কাছারিবাড়ি যেতে হবে একবার।’ মাসি বলে, ‘এত রাতে?’ কানাই বলে, ‘দারোগাবাবু এসে বসে আছেন বাবুর সাথে। যেতে একবার হবেগো। বেঁধে নিয়ে যাবারও হুকুম আছে।’
মাসি-পিসি মুখে মুখে তাকায়। পথের পাশে ডোবার ধারে কাঁঠাল গাছের ছায়ায় তিন-চারজন ঘুপটি মেরে আছে স্পষ্টই দেখতে পেয়েছে মাসি-পিসি। ওরা যে গাঁয়ের গুন্ডা সাধু বৈদ্য ওসমানেরা তাতে সন্দেহ নেই। মাসি বলে, ‘মোদের একজন গলে হবে না কানাই?’ পিসি বলে, ‘আমি যাই চলো।’ কানাই বলেন দুনজনকেই যেতে হবে। মাসি-পিসি দুজনেই আবার তাকায় মুখে মুখে। মাসি বলে, ‘কাপড়টা ছেড়ে আসি কানাই।’ পিসি বলে, ‘হাত ধুয়ে আসি, একদন্ড লাগবে না।’ তাড়াতাড়িই ফিরে আসে তারা। মাসি নিয়ে আসে বঁটিটা হাতে করে, পিসির হাতে দেখা যায় রামদার মতো মস্ত একটা কাটারি।
পিসি বলে কানাই, ‘কর্তাকে বোলো, মেয়েনোকের এত রাতে কাছারিবাড়ি ডাকতে নজ্জা করে না? কানাই ফুঁসে ওঠে, না যদি যাও ভালোয় ভালোয়, ধরে বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাবার হুকুম আছে কিন্তু বলে রাখলাম। মাসি বঁটিটা বাগিয়ে ধরে দাঁতে দাঁত কামড়ে বলে, ‘বটে? ধরে বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাবে? এসো। কে এগিয়ে আসবে এসো। বঁটির এক কোপে গলা ফাঁক করে দেব। পিসি বলে, ‘আয় না বজ্জাত হারামজাদারা, এগিয়ে আয় না? কাটারির কোপে গলা কাটি দু-একটার। দু-পা এগোয় তারা দ্বিধাভরে। মাসি-পিসির মধ্যে ভয়ের লেশটুকু না দেখে সত্যিই তারা খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছে। মারাত্মক ভঙ্গিতে বঁটি আর দা উঁচু হয় মাসি-পিসির।
মাসি বলে শোনো, ‘শোন কানাই, এ কিন্তু এর্কি নয় মোটে। তোমাদের সাথে মোরা মেয়েনোকে পারব না জানি কিন্তু দুটো-একটাকে মারব জখম করব ঠিক।’ পিসি বলে, ‘মোরা নয় মরব।’ তারপর বিনা পরামর্শেই মাসি-পিসি হঠাৎ গলা ছেড়ে দেয়। প্রথমে শুরু করে মাসি, তারপর যোগ দেয় পিসি। আশপাশে যত বাসিন্দা আছে সকলের নাম ধরে গলা ফাটিয়ে তারা হাঁক দেয়, ও বাবাঠাকুর! ও ঘোষ মশায়! ও জনাদ্দন! ওগো কানুর মা! বিপিন! বংশী...। কানাই অদৃশ্য হয়ে যায় দলবল নিয়ে। হাঁকাহাঁকি ডাকাডাকি শুরু হয়ে যায় পাড়ায়, অনেকে ছুটে আসে, কেউ কেউ ব্যাপার অনুমান করে ঘরের জানালা দিয়ে উঁকি দেয় বাহিরে না বেরিয়ে। এই হট্টগোলের পর আরও নিঝুম আরও থমথমে মনে হয় রাত্রিটা। আহ্লাদিকে মাঝখানে নিয়ে শুয়ে ঘুম আসে না মাসি-পিসির চোখে। বিপদে পড়ে হাঁক দিলে পাড়ার এত লোক ছুটে আসে, এমনভাবে প্রাণ খুলে এতখানি জ্বালার সঙ্গে নিজেদের মধ্যে খোলাখুলিভাবে গোকুল আর দারাগো ব্যাটার চোদ্দপুরুষ উদ্ধার করতে সাহস পায়, জানা ছিল না মাসি-পিসির।
তারা হাঁকডাক শুরু করেছিলো খানিকটা কানাইদের ভড়কে দেবার জন্যে, এত লোক এসে পড়বে আশা করেনি। তাদের জন্য যতটা নয়, গোকুল আর দারোগার ওপর রাগের জ্বালাই যেন ওদের ঘর থেকে টেনে বার করে এনেছে মনে হলো সকলের কথাবার্তা শুনে। কেমন একটা স্বস্তি বোধ করে মাসি-পিসি। বুকে নতুন জোর পায়। মাসি বলে, জানো বেয়াইন, ওরা ফের ঘুরে আসবে মন বলছে। এত সহজে ছাড়বে কি। পিসি বলে, তাই ভাবছিলাম। মেয়েটাকে কুটুমবাড়ি সরিয়ে দেওয়ায় সোনাদের ঘরে মাঝরাতে আগুন ধরিয়েছিলো সেবার। খানিক চুপচাপ ভাবে দুজনে। মাসি বলে, ‘সজাগ রইতে হবে রাতটা।’ পিসি বলে, ‘তাই ভালো। কাঁথা কম্বলটা চুবিয়ে রাখি জলে, কী জানি কী হয়।’
আস্তে চুপি চুপি তারা কথা কয়, আহ্লাদির ঘুম না ভাঙ্গে। অতি সন্তর্পণে তারা বিছানা ছেড়ে ওঠে। আহ্লাদির বাপের আমলের গোরুটা নেই, গামলাটা আছে। ঘড়া থেকে জল ঢেলে মোটা কাঁথা আর পুরনো ছেঁড়া একটা কম্বল চুবিয়ে রাখে, চালায় আগুন ধরে উঠতে উঠতে গোড়ায় চাপা দিয়ে নেভানো যাতে সহজ হয়। ঘড়ায় আর হাঁড়ি কলসিতে আরও জল এনে রাখে তারা ডোবা থেকে। বঁটি আর দা রাখে হাতের কাছেই। যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।
লেখক সম্পর্কে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- জন্ম - ১৯০৮ সালের ১৯ মে।
- মৃত্যু - ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর (কলকাতা)।
- জন্মস্থান - বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকো।
- পৈতৃক নিবাস - ঢাকার বিক্রমপুর।
- পিতার নাম - হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- মাতার নাম - নীরদাসসুন্দরী দেবী।
- পিতৃদত্ত নাম - প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ডাকনাম - মানিক।
- প্রথম গল্প - অতসীমামী (মাত্র ২০ বছর বয়সে রচিত)।
- প্রথম উপন্যাস - পদ্মনদীর মাঝি (১৯৩৬)।
- সাহিত্য সাধনা - ৩৯টি উপন্যাস ও ৩০০টি ছোট গল্প।
মাসি-পিসি গল্পের গুরুত্বপূর্ণ লাইন
- বজ্জাত হোক, খুনে হোক জামাই তো। ঘরে এলে খাতির না করব কেন?
- আহ্লাদির সঙ্গে তার চেহারায় কোনো মিল নেই।
- সোয়ামি নিতে চাইলে বৌকে আটকে রাখার আইন নেই।
- শকুনরা উড়ে এসে বসছে পাতাশূণ্য শুকনো গাছটায়।
- মাসি উড়ে এসে জুড়ে বসেছে এখানে। তাই মাসির উপর পিসির একটা অবজ্ঞা অবহেলার ভাব ছিল।
- গাঁয়ের বজ্জাতদের নজর থেকে সামলে রাখতে হবে, কত দায়িত্ব তাদের, কত কাজ, কত ভাবনা।
- তোর পিসে ছিল জগুর মতো।
- সে-ই এখানকার কর্তা, সে-ই সর্বেসর্বা।
- ‘আয় না বজ্জাত হারামদাজাদারা, এগিয়ে আয় না?
- আহ্লাদির বাপের আমলের গরুটা নেই, গামলাটা আছে।
- যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।
শব্দার্থ ও টীকা:
- সালতি - শালকাঠ নির্মিত বা তালকাঠের সরু ডোঙা বা নৌকা।
- কদমছাঁট - মাথার চুল এমনভাবে ছাঁটা যে তা কদমফুলের আকার ধারণ করে।
- লগি - হাত ছয়েক লম্বা সরু বাঁশ। নৌকা চালানোর জন্য ব্যবহৃত বাঁশের দণ্ড।
- খপর - খবর শব্দের আঞ্চলিক উচ্চারণ।
- মেয়া - মেয়ে শব্দের আঞ্চলিক উচ্চারণ।
- সোমত্ত - সমর্থ (সংসারধর্ম পালনে), যৌবনপ্রাপ্ত।
- খুনসুটি - হাসি-তামাশাযুক্ত বিবাদ-বিসম্বাদ বা ঝগড়া।
- বেমক্কা - স্থান বহির্ভূত। অসংগত।
- পেটে শুকিয়ে লাথি ঝাঁটা - পর্যাপ্ত খাবার না-জুগিয়ে কষ্ট দেওয়ার পাশাপাশি লাথি ঝাঁটার মাধ্যমে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা।
- ডালের বড়ি - চালকুমড়া ও ডাল পিষে ছোট ছোট আকারে তৈরি করা খাদ্যবস্ত যা রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয় এবং সবজি-মাছ-মাংসের সঙ্গে করে খাওয়া হয়।
- পাঁশুটে - ছাইবর্ণবিশিষ্ট। ফ্যাকাশে।
- ব্যঞ্জন - রান্না করা তরকারি।
- কাটারি - কাটবার অস্ত্র।
- এর্কি - হাস্য-পরিহাস বা রসিকতা।
মাসি পিসি গল্পের (MCQ)
১. কানাইয়ের সঙ্গে গোকুলের কয়জন পেয়াদা এসেছিলেন?
ক. দুই খ. তিন
গ. চার ঘ. পাঁচ
উত্তর: খ. তিন।
২. মাসি-পিসি আহ্লাদিকে জগুর কাছে পাঠাতে চায়নি কেন?
ক. নির্যাতনের ভয়ে খ. স্নেহের আতিশয্যে
গ. দারিদ্যের কারণে ঘ. আহ্লাদি যেতে চায়নি বলে
উত্তর: ক. নির্যাতনের ভয়ে।
৩. খালে কাদা, ভাঙা ইটপাটকেল আর ওজনে ভারী আবর্জনা বেরিয়ে পড়ে গেছে কেন?
ক. জোয়ারের জন্য খ. ভাটার জন্য
গ. সেচের কারনে ঘ. খালে ভাঁধ দিয়ে জল শুকানোর জন্য
উত্তর: খ. ভাটার জন্য।
৪. বাহকের মাথায় খড় চাপাতে কে ব্যস্ত ছিল?
ক. জগু খ. কানাই
গ. কৈলাশ ঘ. ওসমান
উত্তর; গ. কৈলাশ।
৫. সালতি থেকে ওদের মাথায় খড় তুলে দিচ্ছে কত জন?
ক. একজন খ. দুই জন
গ. তিন জন ঘ. চারজন
উত্তর: খ. দুই জন।
৬. কৈলাশের মাথার চুল কেমন ছিল?
ক. কদমছাঁটা শুস্ক খ. বাটিছাঁটা রুক্ষ
গ. কদমছাঁটা রুক্ষ ঘ. আধাপাকা রুক্ষ
উত্তর: গ. কদমছাাঁটা রুক্ষ।
৭. মাসি-পিসির কাপড়ের আঁচল কোমরে বাঁধা ছিল?
ক. তরকারি বিক্রি করেছিলো বলে খ. সালতির লগি ঠেলছিল বলে
গ. কানাইয়ের সাথে ঝগড়া করেছিলো বলে ঘ. ঘড়া থেকে পানি আনছিলো বলে
উত্তর: খ. সালতির লগি ঠেলছিল বলে।
৮. প্রোঁঢ়া বিধবা মানে?
ক. প্রবীণ স্বামীহীন নারী খ. স্বামীহীন তেজস্বী নারী
গ. চল্লিশোর্ধ্ব স্বামীহীন নারী ঘ. অল্পবয়সী স্বামীহীন নারী
উত্তর: গ. চল্লিশোর্ধ্ব স্বামীহীন নারী।
৯. নৌকা দিয়ে আসার সময় আহ্লাদির পরনে কি ছিল?
ক. নকশা পাড়ের সস্তা সাদা শাড়ি খ. নকশাহীন দামি রঙিন শাড়ি
গ. রঙিন পাড়ের সস্তা সাদা শাড়ি ঘ. নকশা পাড়ের সস্তা নীল শাড়ি
উত্তর: ক. নকশা পাড়ের সস্তা সাদা শাড়ি।
১০ কাদের গলা ঝরঝরে আওয়া একটু মোটা?
ক. মাসির খ. পিসির
গ. জগুর ঘ. মাসি-পিসির
উত্তর: ঘ. মাসি-পিসির।
১১. মাসি-পিসি দুজনে সালতির দুমাথায় থাকলে কৈলাশের খবরটা বলা সম্ভব নয় কেন?
ক. খবরটা গোপন বলে খ. আহ্লাদি শুনে ফেলবে বলে
গ. তাদের দূরুত্ব অনেক বেশি বলে ঘ. কৈলাশকে জোরে বলতে হবে বলে
উত্তর: ক. খবরটা গোপন বলে।
১২. কৈলাশের কথা আহ্লাদি কান পেতে শোনে কেন?
ক. তার স্বামী খবর পাঠিয়েছে বলে খ. স্বামীর কাছে সব ফাঁস করে দেওয়ার জন্য
গ. স্বামীর খবর জানতে কৌতূহলী বলে ঘ. কৈলাশ তার স্বামীর বন্ধু বলে
উত্তর: গ. স্বামীর খবর জানতে কৌতূহলী বলে।
১৩. কৈলাশের প্রথমে খুনসুটি করে কথা বলার কারণ-
ক. মাসি-পিসিকে ভয় পায় বলে খ. মাসি-পিসির সাথে ভাব জমাতে
গ. মাসি-পিসিকে পরোক্ষভাবে ভয় দেখাতে ঘ. জগুর কাছে সহজে আহ্লাদিকে পাঠানোতে রাজি করতে।
উত্তর: খ. মাসি-পিসির সাথে ভাব জমাতে।
১৪. দিনমজুর হালিম বাড়তি কিছু টাকা উপার্জন করলে খারাপ কাজে তা নষ্ট করে দেয়। তার সঙ্গে মাসি-পিসি গল্পের কার মিল রয়েছে?
ক. জগুর খ. কৈলাশের
গ. কানাইয়ের ঘ. ওসমানের
উত্তর: ক. জগুর।
১৫. মাসি-পিসি গল্পে চায়ের দোকান কোথায় অবস্থিত?
ক. শহরের বাজারে খ. গ্রামের হাটে
গ. পুলের কাছে ঘ. কাছারিবাড়ির পথে
উত্তর: গ. পুলের কাছে।
১৬. নিজের যেচে আহ্লাদিকে শশুরবাড়িতে পাঠানোর কথা কে বলেছিল?
ক. জগু খ. কৈলাশ
গ. দারোগবাবু ঘ. বুড়ো রহমান
উত্তর: খ. কৈলাশ।
১৭. বুড়ো রহমান ছলছল দৃষ্টিতে আহ্লাদির দিকে তাকায় কেন?
ক. আহ্লাদির দুঃখে সমব্যথী হয়ে খ. মমতাবোধে তাড়িত হয়ে
গ. আহ্লাদিকে দেখে তার মেয়ের কথা মনে পড়ে বলে ঘ. আহ্লাদির ওপর অত্যাচার হয় বলে
উত্তর: গ. আহ্লাদিকে দেখে তার মেয়ের কথা মনে পড়ে বলে।
১৮. কী বিক্রি করে মাসি-পিসি জগুকে ভালো-মন্দ দশটা জিনিস খাইয়াছে?
ক. সালতি খ. গরু
গ. তরকারি ঘ. ছাগল
উত্তর: ঘ. ছাগল।
১৯. বুড়ো রহমানের মেয়েটা কত দিন আগে শশুরবাড়িতে মারা গেছে?
ক. অল্পদিন খ. কিছুদিন
গ. অনেকদিন ঘ. সম্প্রতি
উত্তর: অল্পদিন।
২০. বুড়ো রহমানের মেয়েটা কেন শশুরবাড়িতে যেতে চায়নি?
ক. অল্পবয়স্ক অবুঝ ছিল বলে খ. শশুরবাড়িতে গলে বাবার কথা মনে পড়ত বলে
গ. শশুরবাড়ির অত্যাচারের ভয়ে ঘ. আহ্লাদির মতো পরিণতি হবে ভেবে
উত্তর: গ. শশুরবাড়ির অত্যাচারের ভয়ে।
২১. জগু কিসের জন্য মামলা করবে বলে কৈলাশের কাছে জানিয়েছে?
ক. সম্পত্তির জন্য খ. বউ নেওয়ার জন্য
গ. মাসি-পিসির অন্যায় দকলদারিত্ব অবসানের জন্য ঘ. জায়গা-জমির জন্য
উত্তর: খ. বউ নেওয়ার জন্য।
২২. কৈলাশের হুমকি শুনে মাসি-পিসি মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল কেন?
ক. নিজেদের ভাবনার আদান-প্রদান করতে খ. কৈলাশকে শায়েস্তা করতে
গ. জগুকে শায়েস্তা করতে ঘ. আহ্লাদির জন্য চিন্তিত হয়ে
উত্তর: ক. নিজেদের ভাবনার আদান-প্রদান করতে।
২৩. আহ্লাদির বাবা, মা, ভাই কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়?
ক. যক্ষ্মা খ. কলেরা
গ. ডায়রিয়া ঘ. আমাশয়
উত্তর: খ. কলেরা।
২৪. মাসি-পিসি আহ্লাদির বাবার আশ্রয়ে মাথা গুঁজে আছে কত দিন?
ক. তিন বছর খ. পাঁচ বছর
গ. দশ বছর ঘ. অনেক দিন
উত্তর: ঘ. অনেক দিন।
২৫. দূর ছাই সয়ে আর কুড়িয়ে পেতে খেয়ে এর মানে?
ক. কুড়িয়ে কুড়িয়ে খাওয়া খ. চূড়ান্ত অবহেলিত দিনযাপন করা
গ. গালাগাল আর কুড়িয়ে খেয়ে দিনযাপন ঘ. দুঃখ-কষ্টে দিনযাপন কা
উত্তর: খ. চূড়ান্ত অবহেলিত দিনযাপন করা।
২৬. বছরের পর বছর ধরে মাসি-পিসি কিছু টাকা পুঁজি করেছিল কেন?
ক. আহ্লাদিকে দেওয়ার জন্য খ. দুঃসময়ে খরচের জন্য
গ. দুর্ভিক্ষে খরচের জন্য ঘ. আহ্ণাদির পিতাকে দেওয়ার জন্য
উত্তর: খ. দুঃসময়ে খরচের জন্য।
২৭. দুর্ভিক্ষের সময়ে মাসি-পিসিদের থাকাটা বরাদ্দ রেখে খাওয়াটা ছাঁটাই করার কারণ?
ক. অর্থনৈতিক সংকট খ. সামাজিক সংকট
গ. পারিবারিক সংকট ঘ. রাজনৈতিক সংকট
উত্তর: ক. অর্থনৈতিক সংকট।
২৮. জগুর লাথি চোটে মরমর আহ্লাদি এসে বাপের বাড়ি হাজির হয়
ক. দুর্ভিক্ষের আগে খ. মহামারীর সময়ে
গ. দুর্ভিক্ষের সময়ে ঘ. মহামারীর পরে
উত্তর: গ. দুর্ভিক্ষের সময়ে।
২৯. আহ্লাদি বাবা গলা কেটে রক্ত দিয়ে মাসি-পিসির ঋণ শোধ দিতে পাওলেও অন্ন জোগান দিতে পারবে না কেন?
ক. অর্থনৈতিক সক্ষমতা নেই বলে খ. তার চাকরি চলে গেলে বলে
গ. মহামারিতে আক্রান্ত বলে ঘ. আহ্লাদির মা রাগ করবে বলে
উত্তর: ক. অর্থনৈতিক সক্ষমতা নেই বলে।
৩০. মাসি-পিসিরা বাজারে তরিতরকারি বিক্রি করতে যায়
ক. দুটো পয়সা উপার্জনের জন্য খ. টাকা জমানোর জন্য
গ. আহ্লাদির বাবাকে ভরণপোষণের খরচ দেওয়া জন্য ঘ. অসুস্থ আহ্লাদিকে সুস্থ করার জন্য
উত্তর: ক. দুটো পয়সা উপার্জনের জন্য।
৩১. মাসি-পিসিরা সালতি বেয়ে কি বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যায়?
ক. খেতের তরিতরকারি খ. গেরস্তের বাড়তি শাকসবজি-ফলমূল
গ. গাঁয়ের বাবুদের বাগানের কলা ঘ. গেরস্ত বাড়ির সংগৃহীত ডিম, হাঁস-মুরগি
উত্তর: খ. গেরস্তের বাড়তি শাকসবজি-ফলমূল।
৩২. বাবু বাসিন্দারা মাসি-পিসির কাছে বাগানের জিনিস বিক্রি করতে দেয়
ক. নগদ টাকার জন খ. নগদ পয়সার জন্য
গ. বাড়তি আয়ের জন্য ঘ. উচ্চমূল্যে বিক্রির জন্য
উত্তর: খ. নগদ পয়সার জন্য।
৩৩.মাসি-পিসির মধ্যে ঐকান্তিক ভাব থাকার কারণ
ক. তাদের চিন্তাভাবনা এক খ. তাদের স্বভাব একই প্রকৃতির
গ. তাদের চেহারা এক ঘ. তাদের বয়স ও অবস্থা এক
উত্তর: ঘ. তাদের বয়স ও অবস্থা এক।
৩৪. আগে কারণে-অকারণে মাসির সঙ্গে পিসির কি বেধে যেত?
ক. কোন্দল খ. ঝগড়া
গ. রেষারেষি ঘ. হিংসা
উত্তর: ক. কোন্দল।
৩৫. উড়ে এসে জুড়ে বসা একটি?
ক. লোককথা খ. প্রবাদ
গ. বাগধারা ঘ. সমাস
উত্তর: খ. প্রবাদ।
৩৬. মাসির ওপর পিসির একটা অবজ্ঞা-অবহেলার ভাব থাকার কারণ
ক. মাসিই প্রথমে তরকারি বিক্রির প্রস্তাব করেছে খ. পিসির চেয়ে মাসিই আহ্লাদিকে বেশি ভালোবাসে
গ. দুর্ভিক্ষের সময় মাসিই তাদের পরিবারকে বেশি সাহায্য করেছে ঘ. মাসি উড়ে এসে জুড়ে বসেছেে
উত্তর: ঘ. মাসি উড়ে এসে জুড়ে বসেছে।
৩৭. পিসির কোন বিষয়টি মাসির সবচেয়ে অসহ্য লাগত?
ক. হিংসা-দ্বেষ খ. অহংকার-খোঁচা
গ. সন্দেহ-অবিশ্বাস ঘ. রেষারেষি-কোন্দল
উত্তর: খ. অহংকার-খোঁচা।
৩৮. আহ্লাদি ঘরে এসে পড়ায় মাসি-পিসির মধ্যকার মিল কি হলো?
ক. জমজমাট খ. সুদৃঢ়
গ. শক্ত ঘ. ভালো
উত্তর: ক. জমজমাট।
৩৯. মাসি-পিসির ওপর আহ্লাদির সব দায়িত্ব কেন?
ক. মা-বাবা নেই বলে খ. তারা আহ্লাদিদের বাড়ি থাকে বলে
গ. আহ্লাদির বাবা তাদের খেতে দেয় বলে ঘ. জগু আহ্লাদিকে নির্যাতন করে বলে
উত্তর: ক. মা-বাবা নেই বলে।
৪০. আহ্লাদির বাবার বেশিরভাগ সম্পদ কার দখলে গেছে?
ক. জগুর খ. গোকুলের
গ. দারোগা বাবুর ঘ. বড় বাবুর
উত্তর: খ. গোকুলের।
৪১. আহ্লাদিকে একা রেখে কোথাও যেতে মাসি-পিসির সাহস হয় না কেন?
ক. একা পেয়ে কেউ তার ক্ষতি করবে ভেবে খ. জগু তুলে নিয়ে যাবে ভেবে
গ. একা থাকতে আহ্লাদি ভয় পায় বলে ঘ. তারা আহ্লাদিকে অনেক ভালোবাসে বলে
উত্তর: ক. একা পেয়ে কেউ তার ক্ষতি করবে ভেবে।
৪২. ভাঁওতা দিয়ে আমাদের দমাবার ফিকির সব-এখানে ভাঁওতা শব্দের প্রতিরুপ হলো
ক. ভয় খ. চালবাজি
গ. প্রতারণা ঘ. হুমকি
উত্তর: খ. চালবাজি।
৪৩. তোর মেসো ঠিক ছিল শাউড়ি-ননদ ছিল বাঘ। এখানে বাঘ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক. ভয়ংকর খ. হিংস্র
গ. নিষ্ঠুর ঘ. ক্রুন্ধ
উত্তর: গ. নিষ্ঠুর।
৪৪. মাথায় তুলে রাখা মানে
ক. মাথার মধ্যে মারা খ. খুব আদর-যত্ন করা
গ. বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া ঘ. ঘৃণা অবহেলা করা
উত্তর: খ. খুব আদর-যত্ন করা।
৪৫. বাইরে দিন কাটলেও আহ্লাদির কোনো পরিশ্রম হয়নি কেন?
ক. শুয়ে-বসে ছিল বলে খ. মাসি-পিসি কাজ করতে দেয়নি বলে
গ. মাসি-পিসি নিজেরাই নৌকা চালিয়েছে বলে ঘ. আহ্লাদি নিজে থেকে কোনো কাজ করতে চায়নি বলে
উত্তর: খ. মাসি-পিসি কাজ করতে দেয়নি বলে।
৪৬. আহ্লাদির নিজেকে ছাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে কেন?
ক. গোকুলে ভয়ে খ. মাসি-পিসির কাছে অনেকে দর হ্যাঁকে বলে
গ. তরিতরকারির মতো তাকে লোকজন কিনতে চায় বলে ঘ. তার জন্য মাসি-পিসিকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে
উত্তর: ঘ. তার জন্য মাসি-পিসিকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে।
৪৭. জগু এলে মাসি-পিসি আহ্লাদিকে আনন্দের অভিনয় করতে শিখিয়ে দিতে চায় কেন?
ক. জামাইকে শান্ত রাখতে খ. যাতে আহ্লাদিকে না নিতে চায় সেজন্য
গ. জামাইকে গোকুলের বিরুদ্ধে চড়াও হতে ঘ. জগু যাতে মামলা না করে সেজন্য
উত্তর: খ. যাতে আহ্লাদিকে না নিতে চায় সেজন্য।
৪৮. মাসি-পিসি মূলত কোন সমাজের কাছে হার মেনেছে?
ক. সন্ত্রাসী সমাজের খ. মাতৃতান্ত্রিক সমাজের
গ. পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ঘ. বাবুশাসিত সমাজের
উত্তর: গ. পুরুষতান্ত্রিক সমাজের।
৪৯. রান্না সেরে খাওয়ার আয়োজনের সময় বাইরে থেকে কার হাঁক আসে?
ক. দারোগা বাবুর খ. ওসমান বৈদ্যের
গ. গোকুলের ঘ. কানাই চৌকিদারের
উত্তর: ঘ. কানাই চৌকিদারের।
৫০. সরকার বাবুর সঙ্গে মাসি-পিসির ঝগড়া হয়েছে কি নিয়ে?
ক. আহ্লাদির বিয়ে নিয়ে খ. বাজারের তোলা নিয়ে
গ. তরকারি বিক্রি নিয়ে ঘ. বাজারে জায়গা দখল নিয়ে
উত্তর: খ. বাজারের তোলা নিয়ে।
৫১. ডোবার ধারে কাঁঠাল গাছের ছায়ায় কত জন ঘুপটি মেরে বসে আছে?
ক. দুই-তিনজন খ. তিন-চারজন
গ. চার-পাঁচজন ঘ. সাত-আট জন
উত্তর: খ. তিন-চারজন।
৫২. বৈদ্য, ওসমানেরা ঘুপটি মেরে বসে ছিল
ক. আহ্লাদিকে ধরে নিতে খ. মাসি-পিসিকে ধরে নিতে
গ. অতর্কিতে হামলা করতে ঘ. বড়ু বাবু বলেছিলো বলে
উত্তর: ক. আহ্লাদিকে ধরে নিতে।
৫৩. পিসি ঘর থেকে কি নিয়ে ফিরে আসে?
ক. বঁটি খ. দা
গ. রামদা ঘ. মস্ত-কাটারি
উত্তর: ঘ. মস্ত-কাটারি।
৫৪. মাসি-পিসির কাছারিবাড়ি যেতে না চাওয়ার কারণ
ক. নিজের সম্মান রক্ষা খ. আহ্লাদির নিরাপত্তা
গ. নিজের বাড়িঘর রক্ষা ঘ. জগুর নিষেধাজ্ঞা
উত্তর: খ. আহ্লাদির নিরাপত্তা।
৫৫. মাসি-পিসির মধ্যে ভয়ের লেশটুকু না দেখে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় কে?
ক. জগু খ. কানাই
গ. গোকুল ঘ. মাসি
উত্তর: খ. কানাই।
৫৬. বাবাঠাকুর, ঘোষ মশাই, জনাদ্দন, কানুর মান, বংশী, বিপিন-এরা কারা?
ক. পিসির জ্ঞাতি খ. আহ্লাদির জ্ঞাতি
গ. মাসির জ্ঞাতি ঘ. মাসি-পিসির প্রতিবেশী
উত্তর: ঘ. মাসি-পিসির প্রতিবেশী।
৫৭. কানাইয়ের দলবল নিয়ে অদৃশ্য হওয়ার প্রধান কারণ
ক. মাসি-পিসির হাত থেকে বাঁচা খ. জনোরোষ থেকে বাঁচা
গ. মাসি-পিসির হাঁকডাক ঘ. বঁটি-কাটারির কোপ থেকে বাঁচা
উত্তর: খ. জনরোষ থেকে বাঁচা।
৫৮. হট্টগোলের পর রাত্রিটাকে আরও নিঝুম আর থমথমে মনে হওয়ার কারণ
ক. অজানা আতঙ্ক খ. রাত্রির নিস্তব্ধতা
গ. প্রতিবেশিদের চলে যাওয়া ঘ. কানাইদের ওত পেতে থাকা
উত্তর: ক. অজানা আতঙ্ক।
৫৯. মাসি-পিসির বুকে নতুন জোর পায় কেন?
ক. প্রতিবেশীরা তাদের সাথে আছে বলে খ. সবাই কানাইয়ের ওপর রেগে আছে বলে
গ. সবার সঙ্গে একই আচরণ করা হয়েছে বলে ঘ. প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দিয়েছে বলে
উত্তর: ক. প্রতিবেশীরা তাদের সাথে আছে বলে।
৬০. মাসি-পিসিরা ঘড়া থেকে জল দিয়ে গামলায় কম্বল চুবিয়ে রাখে কেন?
ক. আগুনের হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য খ. আগুনের হাত থেকে ঘর রক্ষার জন্য
গ. আহ্লাদির জ্বর এলে মাথায় দেওয়ার জন্য ঘ. পরের দিন কম্বল ধোয়ার জন্য
উত্তর: খ. আগুনের হাত থেকে ঘর রক্ষার জন্য।
আরো পড়ুন: রেইনকোট গল্পের MCQ
৬১. গল্পের শেষে মাসি-পিসি কিসের আয়োজন করে রাখে?
ক. ঝগড়ার খ. কোন্দলের
গ. যুদ্ধের ঘ. মারামারির
উত্তর: গ. যুদ্ধের।
৬২. মাসি-পিসি গল্পে পাষাণ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যে অর্থে
ক. শিলা খ. পাথর
গ. হৃদয়হীন ঘ. বাটখারা
উত্তর: গ. হৃদয়হীন।
৬৩. খুনসুটি শব্দের অর্থ কি?
ক. খুন করার পর শুকিয়ে যাওয়া খ. পাটকাঠি
গ. কাটাবার অস্ত্র ঘ. হাসি-তামাশাযুক্ত বিবাদ-বিসম্বাদ বা ঝগড়া
উত্তর:ঘ. হাসি-তামাশাযুক্ত বিবাদ-বিসম্বাদ বা ঝগড়া।
৬৪. কাটারি শব্দের অর্থ কোনটি?
ক. কাটা তরকারি খ. কাটবার অস্ত্র
গ. কাটাকাটি ঘ. কাটা তার
উত্তর: খ. কাটবার অস্ত্র।
৭২. মাসি-পিসি গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় নিম্নের কোন প্রত্রিকায়?
ক. সমকাল খ. পূর্বাশা
গ. কাটাকাটি ঘ. কাটা তার
উত্তর: খ. পূর্বাশা পত্রিকায়।
৭৩. মাসি-পিসি কাঁথা ও কম্বল চুবিয়ে রাখে-এই দৃশ্যটি কোন বাক্যের সঙ্গে মেলে?
ক. চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে খ. ন্যাড়া বেল তলায় একবার যায়
গ. চিকিৎসার চেয়ে সতর্কতা উত্তম ঘ. আগে ঘর পরে পর
উত্তর: গ. চিকিৎসার চেয়ে সতর্কতা উত্তম।
৭৪. পাঁশুটে মানে কি?
ক. ধোঁয়াটে খ. ফ্যাকাশে
গ. ফাংসুটে ঘ. বুনো গাছ
উত্তর: খ. ফ্যাকাশে।
৭৫. কৈলেশ আহ্লাদিকে শুনিয়ে শুনিয়ে কথা বলার কারণ কি?
ক. যাতে আহ্লাদি মাসি-পিসিকে সতর্ক করিয়ে দেয় খ. যাতে জগুকে আগের মতো সম্মান করে
গ. যাতে ভয় পেয়ে জগুর কাছে ফিরে যায় ঘ. যাতে আহ্লাদি কান্নাকাটি শুরু করে দেয়
উত্তর: গ. যাতে ভয় পেয়ে জগুর কাছে ফিরে যায়।
৭৬. হাজার বছর ধরে উপন্যাসের আবুল বৌ পিটিয়ে পৈশাচিক আনন্দ পায়-উদ্দীপকের আবুলের সাথে মাসি-পিসি গল্পের কার মিল রয়েছে?
ক. কৈলেশের খ. দারোগাবাবুর
গ. জগুর ঘ. কানাইয়ের
উত্তর: গ. জগুর।
৭৭. বয়সে সে ছিল অনেক ছোট, চেহারা ছিল অনেক বেশি রোগা-কথাটির কার সম্পর্কে প্রযোজ্য?
ক. আহ্লাদি খ. বৃদ্ধের মেয়ে
গ. পদী ঘ. মাসির ননদ
উত্তর: খ. বৃদ্ধের মেয়ে।
৭৮.মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্প কোনটি?
ক. আতসী মামী খ. অতসীমামী
গ. আজ কাল পুরশুর গল্প ঘ.কাল আজ পরশুর গল্প
উত্তর: খ. অতসীমামী
৭৯. প্রাগৈতিহাসিক কি ধরনের রচনা?
ক. উপন্যাস খ. গল্প
গ. ইতিহাস ঘ. নভেলেট
উত্তর: খ. গল্প।
৮০. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মায়ের নাম কি?
ক. নীরদা সুন্দরী খ. নিকষা সুন্দরী
গ. নিরদা সুন্দরী ঘ. কুসুম কুমারি
উত্তর: ক. নীরদা সুন্দরী।
৮১. মাসি-পিসি গল্পে কাটারি অর্থ কি?
ক. কাটতির যন্ত্র খ. কাঁটা খেলা
গ. কাটবার অস্ত্র ঘ. কাঁটা দেওয়া
উত্তর: কাটবার অস্ত্র।
৮২. মানিক বন্দ্যেপাধ্যায় রচিত ছোটগল্পের সংখ্যা কত?
ক. প্রায় আড়াইশো খ. প্রায় তিনশো
গ. প্রায় সাড়ে তিনশো ঘ. প্রায় চারশো
উত্তর: খ. প্রায় তিনশো।
৮৩. প্রাগৈতিহাসিক গল্পটি কার রচিত?
ক. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় খ. মোতাহের হোসেন চৌধুরি
গ. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ঘ. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: ঘ. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
৮৪. সালতি অর্থ কি?
ক. আম কাঠের সরু ডোঙ্গা বা নৌকা খ. তাল কাঠের সরু নৌকা বা ডোঙ্গা
গ. শাল গাছের গুঁড়ি ঘ. কলা গাছের ভেলা
উত্তর: খ. তাল কাঠের সরু নৌকা বা ডোঙ্গা।
৮৫. তুইও যাবি, সোয়মির ঘর করবি। উক্তিটি কার?
ক. মাসির খ. পিসির
গ. জগুর ঘ. গোকুলের
উত্তর: খ. পিসির।
৮৬. ওসব এক রকম ছেড়ে দিয়েছে জগু-ওসব বলতে কি বোঝানো হয়েছে?
ক. মারামারি খ. গালাগালি
গ. নেশা করা ঘ. মামলা করা
উত্তর: গ. নেশা করা।
৮৭. মাসি-পিসি গল্পের েএকটি অন্যতম দিক কি?
ক. সমাজ শোষণ খ. নারী নির্যাতন
গ. নারীর ব্যক্তিত্ব ঘ. স্বাধীনচেতা মানুষ
উত্তর: খ. নারী নির্যাতন।
৮৮. টিকটিকি কি জাতীয় গ্রন্থ?
ক. উপন্যাস খ. নাটক
গ. ছোটগল্প ঘ. প্রবন্ধ
উত্তর: গ. ছোটগল্প।
৮৯. বিধবা ইন্দির ঠাকুরুন দূরসম্পর্কের ভাইয়ের আশ্রয়ে কোনোমতে দিন কাটায়। ইন্দির ঠাকুরুনের সাথে কার মিল রয়েছে?
ক. আহ্লাদি খ. মাসি-পিসি
গ. লোইসেল ঘ. বুড়ি
উত্তর: খ. মাসি-পিসি।
৯০. মাসি-পিসির মধ্যে সম্পর্কে দূরত্ব ঘুচে যায়
ক. আহ্লাদির দায়িত্ব গ্রহণ খ. ব্যবসায় নেমে
গ. দুর্ভিক্ষের পতিত হয়ে ঘ. দুজনে বিধবা হয়ে
উত্তর: খ. ব্যবসায় নেমে।
৯১. ব্যঞ্জন শব্দের অর্থ কি?
ক. রান্না করা ভাত খ. রান্না করা তরকারি
গ. রান্না করা মাছ ঘ. রান্না করা ডাল
উত্তর: খ. রান্না করা তরকারি।
৯২.আহ্লাদি অস্ফুট আর্তনাদের মতো শব্দ করে কেন?
ক. দুশ্চিন্তায় খ. ভয়ে
গ. হতাশায় ঘ.বেদনায়
উত্তর: খ. ভয়ে।
৯৩. আহ্লাদির স্বামীর নাম কি?
ক. জগু খ. কৈলাশ
গ. গোকুল ঘ. রহমান
উত্তর: ক. জগু।
৯৪. মাসি-পিসি গল্পে আঁটসাঁট থমথমে গড়, গোলগাল মুখ-কার?
ক. মাসির খ. পিসির
গ. আহ্লাদির ঘ. রহমানের মেয়ের
উত্তর: গ. আহ্লাদির।
৯৫.১৯৫২ বঙ্গাব্দের কোন সংখ্যায় মাসি-পিসি গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়?
ক. শ্রাবণ খ. ভাদ্র
গ. ফাল্গুন ঘ. চৈত্র
উত্তর: ঘ. চৈত্র।
৯৬. আহ্লাদির দিকে কে ছলছল চোখে তাকায়?
ক. কৈলেশ খ. রহমান
গ.জগু ঘ. মাসি
উত্তর: খ. রহমান।
৯৭. ডিঙ্গিতে কয়জন করে লোক ছিল?
ক. দু-দুজন করে খ. দু-তিন জন করে
গ. তিন-চারজন করে ঘ. চার-পাঁচজন করে
উত্তর: খ. দু-তিনজন করে।
৯৮. মরণ ঠেকাতে ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি। মাসি-পিসি গল্পে উপর্যুক্ত বাক্যে কোন সময়ের উল্লেখ করা হয়েছে?
ক. দুর্ভিক্ষের মর্মস্পর্শিতার খ. জোতদারের অত্যাচারের
গ.মানবিক জীবনযুদ্ধের ঘ. সংগ্রাম পরিচালনার
উত্তর: ক. দুর্ভিক্ষের মর্মস্পর্শিতার।
৯৯. নিচের কোন রচনাটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোট গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
ক. পদ্মানদীর মাঝি খ. জননী
গ. দিবারাত্রির কাব্য ঘ. প্রাগৈতিহাসিক
উত্তর: ঘ. প্রাগৈতিহাসিক।
১০০. মাসি-পিসি উপোস থাকেন কখন?
ক. দুর্গাপূজায় খ. লক্ষীপূজায়
গ. শুক্লপক্ষের একাদশীতে ঘ. দ্বাদশীতে
উত্তর: খ. লক্ষীপূজায়।
১০১. গলুই নৌকার কোথায় থাকে?
ক. সামনে না পিছনে ক. মাঝে বা পিছনে
গ. তলায় বা সামনে ঘ. মাঝে বা ধারে
উত্তর: ক. সামনে না পিছনে।
১০২. এদের একমাত্র দেবতা অহংকার। কয় ধরনের অহংকারের কথা বলা হয়েছে?
ক. দুই খ. তিন
গ. চার ঘ. পাঁচ
উত্তর: খ. তিন।
১০৩. কার শ্বাশুড়ি ননদের আচরণ ছিল বাঘের মতো?
ক. মাসির খ. পিসির
গ. আহ্লাদির ঘ. রহমানের মেয়ের
উত্তর: ক. মাসির।
১০৪. জগু আর সেই জগু নেই। বলতে কি বোঝানো হয়েছে?
ক. জগুর চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে খ. জগুর আর লোভ নেই
গ. জগুর শিক্ষার উন্নয়ন ঘটেছে ঘ. জগুর এখন অনেক অর্থ
উত্তর: ক. জগুর চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে।
১০৫. মাসি-পিসি গল্পের বৈচিত্র্যময় দিক কোনটি?
ক. অত্যাচারের কাহিনী খ. এর্কির কথা
গ. কথা ভাষার প্রয়োগ ঘ. নারীর ব্যবসা পরিচালনা
উত্তর: ঘ. নারীর ব্যবসা পরিচালনা।
১০৬. মাসি-পিসি গল্পে কোন সমাজব্যবস্থার প্রাধান্য লক্ষণীয়?
ক. নারীশাসিত খ. মাতৃতান্ত্রিক
গ. সাম্যবাদি ঘ. পুরুষতান্ত্রিক
উত্তর: ঘ. পুরুষতান্ত্রিক।
১০৭. মাসি-পিসি গল্পে শকুন কিসের প্রতীকি অর্থ বহন করে?
ক. মন্বত্বর খ. শোষক
গ. দুঃশাসন ও শঙ্কা ঘ. নারী নিপীড়ন
উত্তর: ক. মন্বত্বর।
১০৮. মাসি-পিসি সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি প্রযোজ্য?
ক. দুজনেই স্বামী পরিত্যক্তা খ. দুজনেই আশ্রিত
গ. একে অন্যের শত্রু ঘ. মাসির দম্ভ বেশি
উত্তর: ক. দুজনেই স্বামী পরিত্যক্তা।
১০৯. কে কাদায় লগি গুঁজে দেয়?
ক. পিসি খ. আহ্লাদি
গ. মাসি ঘ. জগু
উত্তর: গ. মাসি।
১১০. মাসি-পিসি জীবনের তাগিদে কিসের ব্যবসা শুরু করেন?
ক. কাপড়ের খ. শাকসবজির
গ. খড়ের ঘ. হাঁস-মুরগির
উত্তর: খ. শাকসবজির।
১১১. বাপ-মা বেঁচে থাকলে আহ্লাদিক কোথায় যেতে হতো বলে লেখক সন্দেহ করেন?
ক. বাপের বাড়ি খ. মাসির বাড়ি
গ. শশুরবাড়ি ঘ. গোকুলের বাড়ি
উত্তর: গ. শশুরবাড়ি।
১১২. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম কি?
ক. প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় খ. সুবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
গ. সুরেশ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ঘ. প্রভাত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: ক. প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
১১৩. নিজেকে তার ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে-কার?
ক. মাসির খ. জগুর
গ. আহ্লাদির ঘ. পিসির
উত্তর: আহ্লাদির।
১১৪. সজাগ রইতে হবে রাতটা। কে বলেছিলো?
ক. মাসি খ. পিসি
গ. কানাই ঘ. কানুর মা
উত্তর: ক. মাসি।
১১৫. নেশাখোর রাসসেনের স্ত্রী মালা স্বামীর অত্যাচারের ভয়ে বাবার বাড়িতে থাকে। রামসেন তোমার পঠিত কোন চরিত্রের আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে?
ক. কৈলাশ খ.গোপাল
গ. জগু ঘ. সন্ধ্যা বেলায়
উত্তর: গ. জগু।
১১৬. মাসি-সালতি নিয়ে কখন বাড়ি ফিরছিল?
ক. দুপুর বেলায় খ. বিকেল বেলায়
গ. শেষ বেলায় ঘ. সন্ধ্যা বেলায়
উত্তর: শেষ বেলায়।
১১৭. রাখো রাখো। খবর আছে শুনে যাও-উক্তিটি কার?
ক. বৃদ্ধ লোকটির খ. জগুর
গ. কানাইয়ের ঘ. কৈলাশের
উত্তর; ঘ. কৈলাশের।
১১৮. যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি-বাক্যটিতে মাসি-পিসির চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
ক. প্রতিশোধপরায়ণতা খ. মাসি-পিসির প্রতিবাদী রুপ
গ. মাসি-পিসির নির্ভীকতা ঘ. মাসি-পিসির রুদ্ধ মূর্তি রুপ
উত্তর: খ. মাসি-পিসির প্রতিবাদী রুপ।
১১৯. এতবড় সোমত্ত মেয়া-আহ্লাদিকে নির্দেশ করে এ কথা কে বলেছে?
ক. মাসি খ. কৈলেশ
গ. পিসি ঘ. দারোগা বাবু
উত্তর: খ. কৈলেশ।
আরো পড়ুন: সিরাজউদ্দৌলা নাটকের MCQ
১২০. খপর আছে শুনে যাও-উক্তিটির সাথে নিচের কোনটির সাদৃশ্য আছে?
ক. বিপদ আছে শুনে যাও খ. সুসংবাদ আছে শুনে যাও
গ. দুঃসংবাদ আছে শুনে যাও ঘ. সংবাদ আছে শুনে যাও
উত্তর: ঘ. সংবাদ আছে শুনে যাও।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ১২১ ও ১২২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও।
করিম বউকে মেরে শান্তি পায়। পাশবিক নির্যাতনে তার বউ অবশেষে আত্মহত্যা করে। করিম পুনরায় বিয়ে করে এবং আবারও স্ত্রীর উপর অত্যাচার শুরু করে।
১২১. উদ্দীপক ও মাসি-পিসি গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো
ক. নারী নির্যাতন খ. পুরুষের আধিপত্যবাদী মনোভাব
গ. নারীর অসহায়ত্ব ঘ. উগ্রতা
উত্তর: ক. নারী নির্যাতন।
১২২. উদ্দীপকের করিম মাসি-পিসি গল্পের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
ক. জগু খ. কৈলেশ
গ. কানাই ঘ. গোকুল
উত্তর: ক. জগু।
১২৩. আহ্লাদিকে তার স্বামী যেভাবে নিয়ে যাবে বলে কৈলাশকে জানায়?
ক. নৌকায় করে খ. জোর খাটিয়ে
গ. মামলা করে ঘ. কৌশল করে
উত্তর: গ. মামলা করে।
১২৪. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
ক. ১৮০৮ খ. ১৯০৮
গ. ১৮৩৮ ঘ. ১৯৩৮
উত্তর: খ. ১৯০৮।
১২৫. মাসি-পিসি গল্পে শেষ পর্যন্ত ওজ্জল্য লাভ করছে?
ক. মাসি-পিসির বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিরোধ খ. আহ্লাদির জীবনসংগ্রাম
গ. মাসি-পিসির মধ্যকার ঐক্য ঘ. আহ্লাদির প্রতি জগুর আকর্ষণ
উত্তর: ক. মাসি-পিসির বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিরোধ।
১২৬. আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য মাসি-পিসির প্রচেষ্টায় তাদের চরিত্রের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো?
ক. দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি খ. সংগ্রামশীলতা
গ. মানবিকতা ঘ. অস্তিত্ব রক্ষা
উত্তর: খ. সংগ্রামশীলতা
১২৭. মাসি-পিসি গল্পে অল্পদিন আগে কার মেয়েটা শ্বশুরবাড়িতে মরেছে?
ক. কৈলাসের খ. রহমানের
গ. গোকুলের ঘ. কানাইয়ের
উত্তর: খ. বৃদ্ধ রহমানের।
১২৮.মাসি-পিসি গল্পে বজ্জাত হোক, খুনে হোক জামাই তো। ব্যাক্যটিতে প্রকাশ পেয়েছে?
ক. কুসংস্কার খ. প্রথানুগত্য
গ. জামাইপ্রীতি ঘ. জামাইভীতি
উত্তর: খ. প্রথানুগত্য।
১২৯. কে এগিয়ে আসবে এসো, বঁটির এক কোপে গলা দু ফাঁক করে দেব-এখানে কি বুঝিয়েছে?
ক. যদি এগিয়ে আসো তবে মারা পড়বে খ. অবশ্যই দু একটাকে কাটব
গ. দু একটাকে না মেরে শান্তি নেই ঘ. এগিয়ে না এলে গলা কাটব।
উত্তর: ক. যদি এগিয়ে আসো তবে মারা পড়বে
১৩০. একজনের বয়স হয়েছে, আধাপাকা চুল, রোগা শরীর-এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
i. বৃদ্ধ লোকটির
ii. রহমানের
iii. কৈলাশের
নিচেন কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i. ii. ও iii.
উত্তর: ক. i ও ii
১৩১. কৈলাশের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের লক্ষণীয়-
i. মাঝবয়সী
ii. বেঁটে ও জোয়ান
iii. কদম ছাঁটা রুক্ষ চুল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i. ii. ও iii.
উত্তর: ঘ. i. ii. ও iii.
১৩২. জগুর স্ত্রী আহ্লাদি
i. এতিম
ii. প্রতিবাদী
iii. নির্যাতিত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i. ii. ও iii.
উত্তর: খ. i ও iii
১৩৩. মাসি-পিসি গল্পে ব্যবহৃত শব্দ হচ্ছে
i. খপর
ii. বেমক্কা
iii. জীবনীশক্তি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i. ii. ও iii.
উত্তর: ঘ. i. ii. ও iii.
১৩৪. জগু আহ্লাদির ওপর যে নির্যাতন করত
i. লাথি ঝাঁটা মারত
ii. কলকেপোড়া ছ্যাঁকা দিত
iii. খুঁটির সাথে বেঁধে রাখত দিন-রাত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i. ii. ও iii.
উত্তর: ঘ. i. ii. ও iii.
১৩৫. বজ্জাত হোক, খুনে হোক, জামাই তো-মাসির এই ভাবনার কারণ-
i. সমাজ পুরুষতান্ত্রিক
ii. মাসি-পিসির অহহায়ত্ব
iii. সামাজিকতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i. ii. ও iii.
উত্তর: খ. i ও iii
১৩৬. মহামারীতে আহ্লাদি হারায়
i. বাবাকে
ii. মাকে
iii. ভাইকে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i. ii. ও iii.
উত্তর: ঘ. i. ii. ও iii.
১৩৭. মাসি এবং পিসি আগে রোজগার করত
i. ধান ভেনে
ii. কাঁথা সেলাই করে
iii. হোগলা গেঁথে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i. ii. ও iii.
উত্তর: ঘ. i. ii. ও iii.
১৩৮. মাসি-পিসি শহরের বাজারে নিয়ে যায়
i. তরিতরকারি
ii. বাগানের ফলমূল
iii. হোগলা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i. ii. ও iii.
উত্তর: ক. i ও ii
১৩৯. মাসি-পিসি দুজনেরই
i. এক অবস্থা
ii. সমান বয়স
iii. এক ঘরে বাস
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i. ii. ও iii.
উত্তর: ঘ. i. ii. ও iii.
১৪০. মাসি-পিসির এক দেহ এক মন হয়ে যাওয়ার কারণ
i. ব্যবসায়িক সম্পর্ক
ii. আহ্লাদির দেখাশোনার ভার
iii. নিজেদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i. ii. ও iii.
উত্তর: ঘ. i. ii. ও iii.
জ্ঞানমূল প্রশ্নোত্তর
- পিতার দেওয়া মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল নাম কি?
- উত্তর: প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
- রসুই চালা মানে কি?
- উত্তর: রসুই চালা মানে হচ্ছে-রান্নাঘর।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতার নাম কি?
- উত্তর: হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- বাংলা সাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কিসের জন্য খ্যাতিমান?
- উত্তর: উপন্যাস ও ছোটগল্প লেখক হিসেবে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ি কোথায়?
- উত্তর: ঢাকার বিক্রমপুরে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে মৃত্যেুবরণ করেন?
- উত্তর; ১৯৫৬ সালে ৩ ডিসেম্বর।
- মাসি-পিসির মাঝখানে গুটিসুটি হয়ে কে বসে আছে?
- উত্তর; আহ্লাদি।
- কৈলাশ কার মাথায় খড় চাপাতে ব্যস্ত ছিল?
- উত্তর: বাহকের মাথায়
- আহ্লাদি কোন পর্যন্ত ঘোমটা টেনে দেয়?
- উত্তর: সিঁথির সিঁদুর পর্যন্ত ঘোমটা টেনে দেয়।
- পিছন থেকে পিসি কি বলেছিলো?
- উত্তর: অনেকটা পথ যেতে হবে কৈলাশ।
- মাসি-পিসির গলা কেমন?
- উত্তর: ঝরঝরে।
- জগুর সঙ্গে কৈলাশের কোথায় দেখা হয়েছিলো?
- উত্তর: চায়ের দোকানে।
- সোয়ামি নিতে চাইলে বৌকে আটকে রাখার নিয়ম নেই-কথাটি কে বলে?
- উত্তর: কৈলাশ
- কাদের জেল হয়ে যাবে বলে ভয় দেখায়?
- উত্তর: মাসি-পিসির।
- কোথায় তরিতরকারি আর ফলমূলের দাম খুব চড়া?
- উত্তর: শহরের বাজারে।
- দুজনেই হয়ে গেল একপ্রাণ-কাদের?
- উত্তর: মাসি-পিসির।
- আহ্লাদির জন্য কে মাসি-পিসিকে পাগল করে তুলেছে?
- উত্তর; গোকুল।
- ঈষৎ তন্দ্রার ঘোরে কে শিউরে ওঠে?
- উত্তর: আহ্লাদি।
- বাজারের তোলা নিয়ে মাসি-পিসির কার সঙ্গে ঝগড়া হয়?
- উত্তর: সরকারবাবুর সঙ্গে।
- কোন-লোকটা মাসি-পিসির অচেনা?
- উত্তর: মাথায় লাল পাগড়ি আঁটা লোকটা।
- পাতার ফাঁকে কার বাবরি চুলওয়ালা মাথায় জোৎস্না পড়েছে?
- উত্তর: বৈদ্যের।
- সকলের নাম ধরে গলা ফাটিয়ে কারা হাঁক দেয়?
- উত্তর: মাসি-পিসি।
হাতে দুটো পয়সা এলে তোমারও স্বভাব বিগড়ে যায় কৈলাশ-ব্যাখ্যা কর।
হাতে দুটো পয়সা এলে তোমারও স্বভাব বিগরে যায় কৈলাশ-উক্তিটি দ্বারা পিসি কৈলাশের চারিত্রিক অধঃপতনের ইঙ্গিত করেছে। মাসি-পিসি গল্পের আহ্লাদি অভাগী এক নারী চরিত্র। জগুর সঙ্গে তার বিয়ে হলেও স্বামীর ঘর করা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই স্বামীর ঘর ছেড়ে আহ্লাদি চলে আসে মাসি-পিসির কাছে। কাজেই কৈলাশ যখন পুনরায় আহ্লাদিকে জগুর কাছে পাঠানোর জন্য সুপারিশ করে, তখন তার প্রতি রাগান্বিত হয়ে পিসি জগুর সঙ্গে তুলনা করে কৈলাশকে এ কটূক্তি করে।
মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি-বাক্যটির দ্বারা লেখক মূলত অসহায় বিধবা মাসি-পিসির জীবনের প্রকিকূলতার কথা বোঝাতে হয়েছে। দুর্ভিক্ষের সময় বাঁচার জন্য মাসি-পিসিকে জীবনের সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়েছে। আহ্লাদির বাবা তাদের শুধু আশ্রয় ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি। তারও তখন অবস্থা ভীষণ খারাপ ছিল। তাই পাল্লা দিয়ে মাসি-পিসির আহ্লাদির জন্য লড়তে হয়েছিলো। অবস্থা যখন তাদের খুব খারাপ, চারদিকে না খেতে পেয়ে মানুষ যখন মরছে তখন তাদের এ দুরবস্থার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে লেখক আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
বাকি রাতটুকু মাসি-পিসিকে কিভাবে সতর্কতা অবলম্বন করে?
বাকি রাতটুকু মাসি-পিসি আহ্লাদিকে না জাগিয়েই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিভিন্ন সতর্কতা অবলম্বন করে। মাসি-পিসি রাতের বেলা চুপিচুপি কথা বলে। মাসি সজাগ থাকার কথা বলে। পিসি কাঁথা -কম্বল ভিজিয়ে রাখে যাতে আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হাঁড়ি-কলসে আরও জল এনে রাখে। বঁটি আর রামদা হাতের কাছেই রাখে। এভাবে যেকোনো বিপদকে প্রতিহত করার সাহস আর মনোবল নিয়ে মাসি-পিসি প্রস্তুত থাকে।
আহ্লাদিকে মাঝখানে নিয়ে শুয়েও মাসি-পিসির চোখে ঘুম আসে না কেন?
আহ্লাদিকে মাঝখানে নিয়ে শুয়েও তাকে নিরাপদে রাখার চিন্তায় মাসি-পিসির চোখে ঘুম আসে না। স্বামীর বাড়িতে চরম অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার আহ্লাদির েএকমাত্র আশ্রয় মাসি-পিসি। তারা দুজনে মিলে আহ্লাদিকে আগলে রাখে। গ্রামের লোলুপ কিছু লোকের দৃষ্টি পড়েছে তার ওপর। তাদের আক্রমণ থেকে যেকোনো মূল্যে তারা আহ্লিাদিকে রক্ষা করতে চায়। তাই সেই দুশ্চিন্তায় আহ্লাদিকে মাঝখানে নিয়ে শুয়েও মাসি-পিসির চোখে ঘুম আসে না।
গল্পের শুরুতে মাসি-পিসির আগমনের চিত্র তুলে ধর
গল্পের শুরুতে মাসি-পিসি সালতি নিয়ে এগিয়ে আসে। মাসি-পিসি গল্পের প্রধান দুই চরিত্র। গল্পের শুরুতে তারা পুলের তলা দিয়ে ভাটার টান ঠেলে সরু ও লম্বা একটি সালতিতে আগমন করে। সালতির দুই মাথায় দুজনে দাঁড়িয়ে লগি ঠেলতে ঠেলতে এগিয়ে যায়। আর ময়লা মোটা থানের আঁচল দুজনেরই কোমরে বাঁধা। মাঝখানে গুটিসুটি হয়ে বসে আছে অল্পবয়সী এক বউ যার নাম আহ্লাদি। মাসি-পিসি গল্পের শুরুতে এভাবেই এই দুই পৌঢ়া বিধবার আগমন লক্ষ করা যায়।
PDF Download
উপসংহার
প্রিয় পাঠক, আজকে আমি আপনাদের সাথে মাসি পিসি গল্পের (MCQ) এই টপিক সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং উপকৃত হতে পেরেছেন। এ রকম আরো তথ্যমূলক পোস্ট পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন। আমরা সবসময় পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী পোস্ট পাবলিশ করে থাকি। এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A4%20%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%A8.webp)

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url