সিরাজউদ্দৌলা নাটকের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর বিস্তারিত জেনে নিন

প্রিয় পাঠক, আজকে আমি আপনাদের সাথে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আশা করি আপনি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আপনি যদি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর গুলো বিস্তারিত জানতে পারবেন। প্রিয় পাঠক, চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর বিস্তারিত জেনে নিন
সিরাজউদ্দৌলা একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নাটক, যেখানে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা–এর জীবনের শেষ অধ্যায় অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। নাটকের মূল পটভূমি পলাশীর যুদ্ধ, যা বাংলার স্বাধীনতার পতনের প্রতীক। নাটকে দেখা যায়, তরুণ ও আবেগপ্রবণ নবাব সিরাজউদ্দৌলা নানা দিক থেকে ষড়যন্ত্রের শিকার হন। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যেই জন্ম নেয় বিশ্বাসঘাতকতা—বিশেষ করে মীর জাফর, ঘসেটি বেগম এবং ইংরেজদের চক্রান্ত তাঁর অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে অভ্যন্তরীণ বিভেদকে কাজে লাগায়।

পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনী কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং তিনি পরাজিত হন। এই পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। নাটকের শেষাংশে সিরাজউদ্দৌলার পলায়ন, বন্দিত্ব এবং নির্মম হত্যার মধ্য দিয়ে ট্র্যাজেডির চূড়ান্ত পরিণতি ফুটে ওঠে। তাঁর ব্যক্তিগত দুর্বলতা, রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা এবং চারপাশের বিশ্বাসঘাতকতা মিলেই এই পতনের কারণ হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।

সারসংক্ষেপে, সিরাজউদ্দৌলা নাটকটি শুধু একটি ব্যক্তির করুণ পরিণতির গল্প নয়, বরং এটি বাংলার স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস, বিশ্বাসঘাতকতার নির্মমতা এবং ঔপনিবেশিক শক্তির উত্থানের এক গভীর প্রতিচ্ছবি।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উক্তি

১। যুদ্ধে জয়লাভ অথবা মৃত্যুবরণ, এই আমাদের প্রতিজ্ঞা।

২। ভিক্টরি অর ডেথ, ভিক্টরি অর ডেথ।

৩। বিপদ আসন্ন দেখে কাপুরুষের মতো হাল ছেড়ে দিও না।

৪। যুদ্ধ করো, প্রাণপণে যুদ্ধ করো। ভিক্টরি অর ডেথ।

৫। ইংরেজদের হয়ে যুদ্ধ করছি কোম্পানির টাকার জন্য। তা বলে বাঙালি কাপুরুষ নয়।

৬। যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা?

৭। জলন্ত আগুনের মুখে বন্ধুদের ফেলে পালিয়া যায়।

৮। সৈন্য তো দূরের কথা এক ছটাক বারুদ পাঠিয়েও কেউ আমাদের সাহায্য করল না।

৯। ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।

১০। কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার রাতারাতি সেনাধ্যক্ষ হয়ে বসেছ।

১১। তোমার কৃতকার্যের উপযুক্ত প্রতিফল নেবার জন্য তৈরি হও হলওয়েল।

১২। এ পর্যন্ত তোমরা যে আচরণ করে এসেছ তাতে তোমাদের ওপর সত্যিকার জুলুম করতে পারলে আমি খুশি হতুম।

১৩। বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে বাঙালির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবার স্পর্ধা ইংরেজ পেলো কোথা থেকে আমি তার কৈফিয়ত চাই।

১৪। বাংলাদেশে বাণিজ্য করবার অনুমতি দিল্লির বাদশাহ আমাদের দিয়েছেন।

১৫। কিন্তু সদ্ব্যবহার তো দূরের কথা তোমাদের জন্য করুণা প্রকাশ করাও অন্যায়।

১৬। ফরাসিরা ডাকাত আর ইংরেজরা অতিশয় সজ্জন ব্যক্তি, কেমন?

১৭। ঘুষের অঙ্ক বড় বেশি মোটা হবার ফলেই নবাবের ধমকানি সত্বেও কৃষ্ণবল্লভকে ত্যাগ করতে পারেনি মি. ড্রেক।

১৮। তবু যদি মেয়েদের নৌকোয় করে কলকাতা থেকে না পালাতেন তা হলেও না হয় এই দম্ভ সহ্য করা যেত।

১৯। অর্থাৎ ঘুষ খেয়ে ঘুষ কথাটার অর্থই বদলে গেছে আপনার কাছে।

২০। প্রাণ বাঁচাবে কী করে তার ব্যবস্থা নেই, কর্তৃত্ব ফলাচ্ছেন সব।

২১। আমি চিরকালই ইংরেজদের বন্ধু। মৃত্যু পর্যন্ত এই বন্ধুত্ব আমি বজায় রাখিব।

২২। সুদূর লাহোর হইতে আমি বাংলাদেশে আসিয়াছি অর্থ উপার্জনের জন্য, যেমন আসিয়াছেন কোম্পানির লোকেরা।

২৩। আজকের জলসা সরগরম করে তুলতে পারবেন আশা করে এঁকে আমি সঙ্গে নিয়ে এসেছি।

২৪। আমি দুধের হাড়ির কাছে যেতে না যেতেই কালি মেখে গুলবাঘা বনে যাই।

২৫। রাজা রাজবল্লভের স্বার্থ যেমন নির্বিঘ্ন হবে আমাদের তেমন আশা নেই। কাজেই আমাদের পক্ষে নগদ কারবারই ভালো।

২৬। দওলত আমার কাছে ভগবানের দাদামশায়ের চেয়েও বড়। আমি দওলতের পূজারি।

২৭। গুরুতর কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে এমন আশঙ্কা আমার ছিল না।

২৮। আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে। বিচারক আপনারা।

২৯। বাংলার প্রজা সাধারণের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিধান করতে পারিনি বলে আমি তাদের কাছে অপরাধী।

৩০। ট্যাক্স দিয়ে বাণিজ্য কর বলে আমার নিরীহ প্রজার ওপরে অত্যাচার করবার অধিকার তোমরা পাওনি।

৩১। আপনাদের কাছে আজ আমি আমার অপরাধের বিচারপ্রার্থী।

৩২। বাংলার নবাবকে ভয় দেখাচ্ছেন সিপাহসালায়?

৩৩। অসংখ্য ভুল বোঝাবুঝি, অসংখ্য এবং শাঠ্যের ওপর আমাদের মৌলিক সম্প্রতীর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।

৩৪। বোঝা যতই দুর্বহ হোক একাই তা বইবার চেষ্টা করব।

৩৫। দেশের স্বার্থের জন্য নিজেদের স্বার্থ তুচ্ছ করে আমরা নবাবের আজ্ঞাবহ হয়েই থাকব।

৩৬। গঙ্গাজল ছুঁয়ে ঈশ্বরের নামে শপথ করছি, আমার জীবন নবাবের কল্যাণে উৎসর্গীকৃত।

৩৭। শেষ পর্যন্ত দশ লক্ষ টাকা খেসারত দিয়ে তবে তার মুক্তি।

৩৮। আমাদের কারও অদৃষ্ট মেঘমুক্ত থাকবে না শেঠজি।

৩৯। মানিকচাঁদের মুক্তিমূল্য পঞ্চাশ কোটি টাকার কম হবে না।

৪০। আমার যাবতীয় সম্পত্তি বিক্রি করলেও এক কোটি টাকা হবে না।

৪১। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। তাই আমাদের সিদ্ধান্ত কাগজে-কলেমে পাকাপাকি করে নেওয়াই আমার প্রস্তাব।

৪২। একটু নুন জোগাড় হলেই কাঁচা খাব বলে মুলোটো হাতে নিয়েই ঘুরছিলাম।

৪৩। আমি জানতাম কাউয়ার্ডদের ওপর কোনো কাজের জন্যেই ভরসা করা যায় না।

৪৪। বড় সুখে আছে রাজমাতা আমেনা বেগম।

৪৫। তোমার মুখে বড় বড় বুলি শুনলে গায়ে যেন জ্বালা ধরে যায়।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১। সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যের স্থান কোনটি?
উত্তর: ফোর্ট উইলিয়াম জাহাজ।

২। সিকানদার আবু জাফর কোন জেলায় জন্মগ্রহন করেন?
উত্তর: সাতক্ষীরা।

৩। কলকাতার নাম আলিনগর ঘোষণা করেন কে?
উত্তর: সিরাজউদ্দৌলা।

৪। আমি চিরকালই ইংরেজদের বন্ধু। মৃত্যু পর্যন্ত এই বন্ধুত্ব আমি বজায় রাখিব। কে বলেছেন?
উত্তর: উমিচাঁদ।

৫। সিরাজউদ্দৌলা নাটকে প্রথম কোন চরিত্রের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়?
উত্তর: ক্লেটন।

৬। কাকে আলিনগরের দেওয়ান নিযুক্ত করা হয়?
উত্তর: রাজা মানিকচাঁদকে।

৭। সিরাজের পতন কে না চায় সংলাপটি কার?
উত্তর: ঘসেটি বেগমের।

৮। প্রাণপণে যুদ্ধ করো, সাসহী ব্রিটিশ সৈনিক এক কথাটি কার?
উত্তর: ক্যাপ্টেন ক্লেটনের।

৯। সিকানদার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
উত্তর: সমকাল।

১০। সিকানদার আবু জাফরের জন্ম সন কোনটি?
উত্তর: ১৯১৮।

১১। সিরাজউদ্দৌলা নাটকের দৃশ্য রয়েছে?
উত্তর: ১২টি।

১২। নবাবের রাজধানী ছিল কোথায়?
উত্তর: মুর্শিদাবাদে।

১৩। মোহাম্মাদি বেগ কত টাকার বিনিময়ে সিরাজকে হত্যা করতে রাজি হয়েছিলো?
উত্তর: দশ হাজার।

১৪। স্বার্থান্ধ প্রতারকের কাপুরুষতা বীরের সংকল্প টলাতে পারেনি বলতে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সাহসিকতা।

১৫। সিকানদার আবু জাফরের পেশা কি ছিল?
উত্তর: সাংবাদিকতা।

১৬। সিকানদার আবু জাফর রচিত প্রসন্ন প্রহর কোন ধরনের রচনা?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।

১৭। সিরাজউদ্দৌলা নাটকের তৃতীয় অঙ্কে মোট কতটি দৃশ্য রয়েছে?
উত্তর: চারটি।

১৮। সিরাজউদ্দৌলা নাটকের কোন অংশে অঙ্কে সর্বনিম্ন ২ দুটি দৃশ্য রয়েছে?
উত্তর: চতুর্থ অঙ্কে।

১৯। রস বিচারে সিরাজউদ্দৌলা কোন প্রথম অঙ্কের দৃশ্যের সময়কাল কোনটি?
উত্তর: ১৯৫৬ সাল ১৯ জুন।

২০। ডাচ শব্দটি কোন জাতিকে নির্দেশ করা হয়?
উত্তর: ওলন্দাজ বা হল্যান্ডের অধিবাসীদের।

২১। সিরাজউদ্দৌলা নাটকে কোম্পানি শব্দটি দ্বারা কোন কোম্পানিকে নির্দেশ করে?
উত্তর: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

২২। যুদ্ধে জয়লাভ অথবা মৃত্যুবরণ, এই আমাদের প্রতিজ্ঞা। এই সংলাপটি কার?
উত্তর: ক্লেটনের।

২৩। নবাবের পদাতিক বাহিনী কোথাকার রাস্তা দিয়ে চলে এসেছে?
উত্তর: দমদমের সরু রাস্তা দিয়ে।

২৪। নবাবের গোলন্দাজ বাহিনী কোন খাল পেরিয়ে ইংরেজ দুর্গের দিকে এগিয়ে আসে?
উত্তর: শিয়ালদহের মারাঠা খাল।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url