অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর বিস্তারিত জেনে নিন

প্রিয় পাঠক, আজকে আমি আপনাদের সাথে অপরিচিতা গল্পের অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আশা করি আপনি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আপনি যদি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর গুলো বিস্তারিত জানতে পারবেন। প্রিয় পাঠক, চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর বিস্তারিত জেনে নিন
অপরিচিতা গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় প্রথম চৌধুরি সম্পাদিত মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায়। এটি প্রথম গ্রন্থভুক্ত হয় রবীন্দ্রগল্পের সংকলন গল্পসপ্তক এ এবং পরে গল্পগুচ্ছ তৃতীয় খণ্ডে (১৯২৭)। অপরিচিতা গল্পটির নায়ক হলেন অনুপম এবং নায়িকা হলেন কল্যাণী। অপরিচিতা গল্পটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম একটি গল্প। এ গল্পে তিনি প্রথমত নায়ক অনুপমের রুপমাধুর্যের বর্ণনা দিয়েছেন। বয়স ও যোগ্যতার বিচারেও সে পরিণত ছিল। অনুপমের পরিবারে তার মামা-ই ছিলেন পরিবারের কর্তা। তাই তার মামার কথা মতো সংসার চলত। অনুপমের বাবা মারা গিয়েছেন তাই তার মামার কথা পরিবারে সবাই মান্য করে।

অনুপম মায়ের অনুগত সন্তান ছিলেন। অনুপম একজন ভালো মানুষ বা সৎ পাত্র হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। অনুপমের বন্ধুর নাম হলো হরিশ। হরিশ কানপুরে কাজ করে। হরিশ ছুটিতে আসলে অনুপমের বাড়িতে তাদের একটি আসর জমে সেখানেই অনুপমের বিয়ের কথা উঠে। অনুপমের বন্ধু হরিশ ছিলেন খুব রসিক মানুষ। হরিশ বললেন একটি চমৎকার মেয়ে আছে বাহে। তখন অনুপমের মনের মধ্যে বসন্তের কোকিল কুহু স্বরে ডেকে উঠে। এই গল্পের নায়িকার বাবার নাম ছিল শম্ভুনাথ সেন। তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী একজন সুপুরুষ। অন্যদিকে অনুপমের মামা বিয়ের পণের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়ার মানুষ নয়।
অনুপমের মামা বিয়ের দিন গহনা পরিক্ষা করার জন্য সেকরাকে সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর সেটাই ছিল অনুপমের মামার সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত। অনুপমের মামা কোনো জায়গায় হারতে রাজি নন। তাই গহনা পরিক্ষা করার জন্য সেকরাকে বিয়ে বাড়িতে সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেকরা গহনা পরিক্ষা করার পর বরপক্ষ থেকে যে গহনা দেওয়া হয়েছিলো আর্শীবাদের সময় সেই গহনা ছিল নকল গহনা। তাই কল্যাণীর পিতা বর পক্ষকে খাওয়াইয়ে বিদায় করে দিয়েছিলেন।

অপরিচিতা গল্পের লেখক পরিচিতি

লেখকের প্রকৃত নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। লেখকের ছদ্মনাম ভানুসিংহ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথের জন্মতারিখ: ৭ মে ১৮৬১ খ্রি. (২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ)। লেখকের জন্মস্থান জোড়াসাঁকো, কলকাতা, ভারত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাতার নাম সারদা দেবী ও পিতামহের নাম প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ মাতা-পিতার চতুর্দশ সন্তান ও অষ্টম পুত্র। তিনি কবিতা রচনা করতে আরম্ভ করেন মাত্র আট বছর বয়সে। তার প্রথম কবিতাটির নাম ছিল হিন্দুমেলার উপহার। রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘কবিকাহিনী’ রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত নাটকের নাম বাল্মাকি প্রতিভা (প্রকাশকাল; ১৮৮১)। রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম বৌ ঠাকুরাণীর হাট (প্রকাশকাল; ১৮৮৩)। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প রচয়িতা এবং বাংলা ছোটগল্পের শ্রেষ্ঠ শিল্পী হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১২৮৪ বঙ্গাব্দে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ভিখারিনী গল্প রচনার মাধ্যমে ছোটগল্পের লেখক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মপ্রকাশ ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ গল্পটির নাম ‘‘মুসলমানীর গল্প’’। কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসবাসের কালই রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প রচনার স্বর্ণযুগ। রবীন্দ্রনাথকে বলা হয় বাংলা ছোটগল্পের জনক। প্রথম জীবনে রবীন্দ্রনাথের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য কবিতা নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ (আজি এ প্রভাতে রবির কর/কেমনে পশিল প্রাণের পর)। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন ১৯০১ সালে।

কবি শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম নামে একটি আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন ১৯০১ সালে। রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলী কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে। গীতাঞ্জলির অনুবাদ Song offerings নামে প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে। Song offerings এর ভূমিকা লেখেন- ইংরেজ কবি W . B. Yeats. রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে ব্রিটিশ সরকার নাইটহুড বা ‘স্যার’ উপাধি প্রদান করেন ১৯১৫ সালের ৩রা জুন। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় শেষ কাব্যগ্রন্থ শেষলেখা ১৯৪১ সালে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম ‘‘জীবনস্মৃতি’ প্রকাশকাল ১৯১২। রবীন্দ্রনাথ কবি কাজী নজরুলকে উৎসর্গ করেন বসন্ত নাটকটি (প্রকাশ ফাল্গুন ১৩২৯)। রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ কাব্যসংকলনের নাম সঞ্চয়িতা।

অপরিচিতা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ লাইন

  • আজ আমার বয়স সাতশ মাত্র।
  • ছেলেবেলায় আমার সুন্দর চেহারা লইয়া পণ্ডিতমশায় আমাকে শিমুল ফুল ও মাকাল ফলের সহিত তুলনা করিয়া, বিদ্রুপ করিবার সুযোগ পাইয়াছিলেন।
  • আমার পিতা এক কালে গরিব ছিলেন। ওকালতি করিয়া তিনি প্রচুর টাকা রোজগার করিয়াছেন, ভোগ করিবার সময় নিমেষমাত্রও পান নাই।
  • মার হাতেই আমি মানুষ।
  • আজও আমাকে দেখিলে মনে হইবে, আমি অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোট ভাইটি।
  • আমার আসল অভিভাবক আমার মামা। তিনি আমার চেয়ে বড়োজোর বছর ছয়েক বড়।
  • কন্যার পিতা মাত্রই স্বীকার করিবেন, আমি সৎপাত্র।
  • যিনি পৃথিবীতে আমার ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট, বিবাহ সম্বন্ধে তাঁর একটা বিশেষ মত ছিল।
  • আমার বন্ধু হরিশ কানপুরে কাজ করে।
  • এই অবকাশের মরুভূমির মধ্যে আমার হৃদয় তখন বিশ্বব্যাপী নারীরূপের মরীচিকা দেখিতেছিল-আকাশে তাহার দৃষ্টি, বাতাসে তাহার নিঃশ্বাস, তরুমর্মরে তাহার গোপন কথা।
  • মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাঁহার কাছে গুরুতর।
  • এক কালের ইহাদের বংশে লক্ষ্মীর মঙ্গঘাট ভরা ছিল।
  • দেশে বংশমর্যাদা রাখিয়া চলা সহজ নয় বলিয়া ইনি পশ্চিমে গিয়া বাস করিতেছেন।
  • মেয়ের বয়স যে পনেরো, তাই শুনিয়া মামার মন ভার ইইল।
  • একে বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙ্গা পণ, কাজেই বাপ কেবলই সবুর করিতেছেন-কিন্তু মেয়ের বয়স সবুর করিতেছে না।
  • কলিকাতার বাহিরে বাকি যে পৃথিবীটা আছে সমস্তটাকেই মামা আন্দামান দ্বীপের অন্তর্গত বলিয়া জানেন।
  • বিনুদা ফিরিয়া আসিয়া বলিলেন, ‘‘মন্দ নয় হে ! খাঁটি সোনা বটে !’’।
  • বিনুদাদার ভাষাটা অত্যন্ত আঁট।
  • আমার ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের কোনো বিরোধ নাই।
  • বিবাহ-উপলক্ষে কন্যাপক্ষকেই কলিকাতায় আসিতে হইল।
  • ব্যান্ড, বাঁশি, শখের কন্সর্ট প্রভৃতি যেখানে যতপ্রকার উচ্চ শব্দ আছে সমস্ত একসঙ্গে মিশাইয়া বর্বর কোলাহলের মত্ত হস্তী দ্বারা সংগীত সরস্বতীর পদ্মবন দলিত বিদলিত করিয়া আমি তো বিবাহ-বাড়িতে গিয়া উঠিলাম।
  • ‘‘বাবাজি, একবার এই দিকে আসতে হচ্ছে’’।
  • মামা বলিলেন, ‘‘অনুপম’’ এখানে কী করিবে। ও সভায় গিয়া বসুক।
  • শম্ভুনাথ বলিলেন, ‘‘না সভায় নয়, এখানেই বসিতে হইবে’’।
  • স্যাকরা কহিল, ‘‘ইহা বিলাতি মাল, ইহাতে সোনার ভাগ সামান্যই আছে’’।
  • ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই।
  • শম্ভুনাথ কহিলেন, আমার কন্যার গহনা আমি চুরি করিব এ কথা যারা মনে করে তাদের হাতে আমি কন্যা দিতে পারি না।
  • বিবাহ হইল না অথচ আমাদের ফাঁকি দিয়া খাওয়াইয়া দিল - পাকযন্ত্রটাকে সমস্ত অন্নসুদ্ধ সেখানে টান মারিয়া ফেলিয়া দিয়া আসিতে পারিলে তবে আফসোস মিটিত।
  • হরিশের কাছে শুনিয়াছি, মেয়টিকে আমার ফটোগ্রাফ দেখানো হইয়াছিল।
  • শিগগির চলে আয় এই গাড়িতে জায়গা আছে।
  • চিরকাল গলার স্বর আমার কাছে বড়ো সত্য।
  • রূপ জিনিসটটি বড়ো কম নয়, কিন্তু মানুষের মধ্যে যাহা অন্তরতম এবং অনির্বচনীয়, আমার মনে হয় কণ্ঠস্বর যেন তারই চেহারা।
  • ওগো সুর, অচেনা কণ্ঠের সু, এক নিমেষে তুমি যে আমার চিরপরিচয়ের আসনটির উপরে আসিয়া বসিয়াছ।
  • তাহার একটিমাত্র ধুয়া ‘‘গাড়িতে জায়গা আছে’’।
  • মেয়েটির বয়স ষোলো কি সতেরো ইইবে, কিন্তু নবযৌবন ইহার দেহে মনে কোথাও যেন একটুও ভার চাপাইয়া দেয় নাই।
  • ইহার গতি সহজ, দীপ্তি নির্মল, সৌন্দর্যের শুচিতা অপূর্ব, ইহার কোনো জায়গায় কিছু জড়িমা নাই।
  • ‘‘না, আমরা গাড়ি ছাড়িব না’’।
  • সে বলিল মাতৃ-আজ্ঞা।
  • তার পরে বুঝিলাম, মাতৃভূমি আছে।
  • সেই যে রাত্রির অন্ধকারের মধ্যে আমার কানে আসিয়াছিল, ‘‘জায়গা আছে’’, সেই যে আমার চিরজীবনের গানের ধুয়া হইয়া রইল।
  • তখন আমার বয়স তেইশ, এখন ইইয়াছে সাতাশ।
  • কেবল সেই এক রাত্রির অজানা কণ্ঠের মধুর সুরের আশা-জায়গা আছে।
  • ওগো অপরিচিতা, তোমার পরিচয়ের শেষ হইল না, শেষ ইইবে না; কিন্তু ভাগ্য আমার ভালো, এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।

অপরিচিতা গল্পের শব্দার্থ ও টীকা

  1. এ জীবনটা না দৈঘ্যের হিসাবে বড়ো, না গুণের হিসাবে - গল্পের কথক চরিত্র অনুপমের আত্মসমালোচনা। পরিমাণ ও গুণ উভয় দিক দিয়েই যে তার জীবনটি নিতান্তই তুচ্ছ সে কথাই এখানে ব্যক্ত হয়েছে।
  2. ফলের মতো গুটি - গুটি এক সময় পূর্ণ ফলে পরিণত হয়। কিন্তু গুটিই যদি ফলের মতো হয় তাহলে তার অসম্পূর্ণ সারবত্তা প্রকট হয়ে ওঠে। নিজের নিষ্ফল জীবনকে বোঝাতে অনুপমের ব্যবহৃত উপমা।
  3. মাকাল ফল - দেখতে সুন্দর অথচ ভেতরে দুর্গন্ধ ও শাঁসযুক্ত খাওয়ার অনুপযোগী ফল। বিশেষ অর্থে গুণহীন।
  4. অন্নপূর্ণা - অন্নে পরিপূর্ণা। দেবী দুর্গা।
  5. গজানন - গজ (হাতি) আনন যার। গণেশ।
  6. আজও আমাকে দেখিলে মনে হইবে, আমি অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোটো ভাইটি - দেবী দুর্গার দুই পুত্র: অগ্রজ গণেশ ও অনুজ কার্তিকেয়। মা দুর্গার কোলে থাকা দেব-সেনাপতি কার্তিকেয়কে বোঝানো হয়েছে। ব্যঙ্গার্থে প্রয়োগ।
  7. ফল্লু - ভারতের গয়া অঞ্চলের অন্তঃসলিলা নদী। নদীটির ওপরের অংশ বালির আন্তরণ কিন্তু ভেতরে জলস্রোত প্রবাহিত।
  8. ফল্লুর বালির মতো তিনি আমাদের সংসারটাকে নিজের অন্তরের মধ্যে শুষিয়া লইয়াছেন - অনুপম তার মামার চরিত্র-বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে কথাটি বলেছে। সংসারের সমস্ত দায়-দায়িত্ব পালনে তার ভূমিকা এখানে উপমার মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে।
  9. গন্ডূষ - একমুখ বা এককোষ জল।
  10. অন্তঃপুর - অন্দরমহল। ভেতরবাড়ি।
  11. স্বয়ংবরা - যে মেয়ে নিজেই স্বামী নির্বাচন করে।
  12. গুড়গুড়ি - আলবোলা।ফরসি। দীর্ঘ নলযুক্ত হুকাবিশেষ।
  13. বাঁধা হুকা - সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য নারকেল-খোলে তৈরি ধূমপানের যন্ত্রবিশেষ।
  14. উমেদারি - প্রার্থনা। চাকরির আশায় অন্যের কাছে ধরনা দেওয়া।
  15. অবকাশের মরুভূমি এক - আনন্দহীন প্রচুর অবসর বোঝানো হয়েছে।
  16. কালে ইহাদের বংশে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘাট ভরা ছিল - লক্ষ্মী ধন ও ঐশ্বর্যের দেবী। মঙ্গঘাট তাঁর প্রতীক। কল্যাণীদের একসময় লক্ষ্মীর কৃপায় ঐশ্বর্যের ঘট পূর্ণ ছিল।
  17. পশ্চিমে - এখানে ভারতের পশ্চিম অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে।
  18. আন্দামান দ্বীপ - ভারতীয় সীমানাভুক্ত বঙ্গোপসাগরের দ্বীপবিশেষ। স্বদেশী আন্দোলনের যুগে রাজবন্দিদের নির্বাসন শাস্তি দিয়ে আন্ডামান বা আন্দামানে পাঠানো হতো।
  19. কোন্নগর - কলকাতার নিকটস্থ একটি স্থান।
  20. মনু - বিধানকর্তা বা শাস্ত্রপ্রণেতা মুনিবিশেষ।
  21. মনু সংহিতা - মনু-প্রণীত মানুষের আচরণবিধি সংক্রান্ত গ্রন্থ।
  22. প্রজাপতি - জীবের স্রষ্টা। ইনি বিয়ের দেবতা।
  23. পঞ্চশর - মদনদেবের ব্যবহার্য পাঁচ ধরনের বাণ।
  24. কন্সর্ট - নানা রকমের বাদ্যযন্ত্রের ঐক্যতান।
  25. বর্বর কোলাহলে মত্ত হস্তী দ্বারা সংগীত সরস্বতীর পদ্মবন দলিত বিদলিত করিয়া আমি তো বিবাহ বাড়িতে গিয়া উঠিলাম - অনুপম নিজের বিবাহযাত্রার পরিস্থিতি বর্ণনায় সুরশূন্য বিকট কোলাহলের সঙ্গে সংঙ্গীত সরস্বতীর পদ্মবন দলিত হওয়ার তুলনা করেছে।
  26. অভিষিক্ত - অভিষেক করা হয়েছে এমন।
  27. সওগাদ - উপঢৌকন। ভেট।
  28. লোক বিদায় - পাওনা পরিশোধ। এখানে অনুষ্ঠানের শেষে পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধের কথা বলা হয়েছে।
  29. কষ্টি পাথর - যে পাথরে ঘষে সোনার খাঁটিত্ব যাচাই পরীক্ষা করা হয়।
  30. মকরমুখো - মকর বা কুমিরের মুখের অনুরূপ।
  31. মকরমুকো মোটা একখানা বালা - মকরের মুখাকৃতিযুক্ত হাতে পরিধেয় অলস্কার বিশেষ।
  32. এয়ারিং - কানের দুল।
  33. দক্ষযজ্ঞ - প্রজাপতি দক্ষ কর্তৃক অনুষ্ঠিত যজ্ঞ। এ যজ্ঞে পতিনিন্দা শুনে সতী দেহত্যাগ করেন। স্ত্রীর মৃত্যুসংবাদ শুনে শিব অনুচরসহ যজ্ঞস্থলে পৌঁছে যজ্ঞ ধ্বংস করে দেন এবং সতীর শব কাঁধে তুলে নিয়ে প্রলয় নৃত্যে মত্ত হন। এখানে প্রলয়কাণ্ড বা হট্টগোল বোঝাচ্ছে।
  34. রসনচৌকি - শানাই, ঢোল ও কাঁসি এই তিন বাদ্যযন্ত্রে সৃষ্ট ঐকতানবাদন।
  35. অভ্র - এক ধরনের খনিজ ধাতু।
  36. কলি - পুরাণে বর্ণিত শেষ যুগ। কলিযুগ। কলিকাল।

অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

১। মামাকে ভাগ্য দেবতার প্রধান এজন্ট বলার কারণ তার?
উত্তর: প্রভাব।

২। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ১৮৬১।

৩। অনুপমের বাবা কি করে জীকিা নিবার্হ করতেন?
উত্তর: ওকালতি।

৪। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প রচয়িতা কে?
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৫। সাতাশ বছর বয়সের একটু কি আছে?
উত্তর: বিশেষ মর্যাদা।

৬। অপরিচিতা গল্প অনুযায়ী দৈর্য্যে বা হিসেবে কোন জীবনটা বড় নয়?
উত্তর: সাতাশ বছর বয়সের জীবন।

৭। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্য কোনটি?
উত্তর: বনফুল।

৮। রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম?
উত্তর: বৌ ঠাকুরাণীর হাট।

৯। শেষের কবিতা কোন জাতীয় সাহিত্য কর্ম
উত্তর: উপন্যাস।

১০। গীতাঞ্জলি কার কাব্যগ্রন্থ?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথের।

১১। কোন গল্প রচনার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পের ময়দানে পদার্পণ করেন?
উত্তর: ভিখারিনী।

১২। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন অভিধায় সম্ভাষিত?
উত্তর: বিশ্বকবি।

১৩। গল্পগুচ্ছে কতটি গল্প সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: ৯৫।

১৪। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসবাস করেছিলেন কেন?
উত্তর: জমিদারি দেখাশোনার জন্য।

১৫। কোথায় বসবাসের কাল রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প রচনার স্বর্ণযুগ?
উত্তর: শিলাইদহ।

১৬। আন্দামান দ্বীপ কোন সাগরের সীমানাভুক্ত?
উত্তর: বঙ্গোপসাগরের।

১৭। অনুপমের আসল অভিভাবক কে?
উত্তর: মামা।

১৮। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ শতকে যেসব ছোটগল্প লিখেছেন সেখানে কী প্রাধান্য পেয়েছে?
উত্তর: বাস্তবতা।

১৯। অপরিচিতা গল্পে ফুলের বুকে কি এসে বসেছিলো?
উত্তর: ভ্রমর।

২০। সেই ইতিহাসটুকু আকারে ছোট। এখানে কিসের ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: অনুপমের সাতাশ বছরের জীবনের।

২১। কারা অনুপমের ছোট লেখার রস বুঝিবেন?
উত্তর: ছোটকে যারা সামান্য বলে ভুল করেন না।

২২। ছেলেবেলায় অনুপমের সুন্দর চেহারা নিয়ে পণ্ডিত মশায় তাকে কোন ফুলের সাথে তুলনা করতেন?
উত্তর: শিমুল ফুল।

২৩। অনুপমের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি?
উত্তর: এমএ।

২৪। ছেলেবেলায় অনুপমের সুন্দর চেহারা নিয়ে পণ্ডিত মশায় তাকে কোন ফলের সাথে তুলনা করতেন?
উত্তর: মাকাল ফল।

২৫। অনুপমের পিতার অর্জিত সম্পত্তি ভোগ করার সময় নিমেষমাত্র না পাওয়ার কারণ কি?
উত্তর: অকাল মৃত্যু।

২৬। অনুপম কার হাতে মানুষ?
উত্তর: মায়ের।

২৭। অনুপমের মা কেমন ঘরের মেয়ে?
উত্তর: গরিব।

২৮। কোলে কোলে মানুষ শব্দগুচ্ছটি ব্যাকারণের কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে?
উত্তর: বাগধারা।

২৯। কাকে দেখলে অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোট ভাই বলে মনে হবে?
উত্তর: অনুপমকে।

৩০। অনুপমের থেকে তার মামা বড়জোড় কত বছরের বড়?
উত্তর: ছয়।

৩১। অপরিচিতা গল্পে ফল্লুর বালি বলতে বুঝানো হয়েছে?
উত্তর: সবকিছু আগলে রাখা।

৩২। কন্যার পিতা মাত্রেই স্বীকার করিবেন?
উত্তর: গল্পকথক একজন সৎ পাত্র।

৩৩। অনুপম নিতান্তই ভালো মানুষ কেন?
উত্তর: ভালো মানুষ হওয়ার কোনো ঝঞ্ঝাট নাই বলে।

৩৪। অনুপমের মায়ের আদেশ মেনে চলার ক্ষমতা ছিল কেন?
উত্তর: না মানার ক্ষমতা ছিল না বলে।

৩৫। কেমন ঘর থেকে অনুপমের সম্বন্ধ এসেছিলো?
উত্তর: অনেক বড় ঘর।

৩৬। সেইজন্য শেষ পর্যন্ত আমার পুরাপুরি বয়সই হইল না-এ কথাটির অন্তর্নিহিত বক্তব্য কি?
উত্তর: অনুপম শেষ পর্যন্ত স্বাবলম্বী পুরুষ হতে পারল না।

৩৭। অপরিচিতা গল্পে উল্লেখকৃত বিবাহ সম্বন্ধে কার একটা বিশেষ মত ছিল?
উত্তর: মামার।

৩৮। রক্তকবরী কোন শ্রেণির রচনা
উত্তর: নাটক।

৩৯। রবীন্দ্রনাথের লেখা গ্রন্থ কোনটি?
উত্তর: কালান্তর।

৪০। ২০০৬ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কততম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়?
উত্তর: ৬৭তম।

৪১। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন নাটকটি কবি নজরুলকে উৎসর্গ করেছিলেন?
উত্তর: বসন্ত।

৪২। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এশীয়দের মধ্যে কততম নোবেল বিজয়ী?
উত্তর: প্রথম।

৪৩। রাজা নাটক কত সালে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ১৯১০।

৪৪। কার কন্যা অনুপমের মামার পছন্দ নয়?
উত্তর: ধনীর।

৪৫। অনুপমের বন্ধু হরিশ কোথায় কাজ করে?
উত্তর: কানপুরে।

৪৬। সব জায়গায় কার খাতির?
উত্তর: হরিশের।


৪৭। অনুপমের শরীর মন কিসের মাতার মত কাঁপতে লাগল?
উত্তর: বকুলবন।

৪৮। অপরিচিতা গল্পে কাকে রসিক বলা হয়েছে?
উত্তর: হরিশকে।

৪৯। কে আসর জমাতে অদ্বিতীয়?
উত্তর: হরিশ।

৫০। বিয়ের কন্যার বয়স কত ছিল?
উত্তর: ১৫।

৫১। অনুপমের মন উতলা বলতে কি বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: আকুলতা।

৫২। এই অবকাশ বলতে কোন সময়ের কথা বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এম.এ.পাসের পরের সময়।

৫৩। কার মন তৃষ্ণার্ত?
উত্তর: অনুপমের।

৫৪। মামা কাকে পেলে ছাড়তে চান না?
উত্তর: হরিশকে।

৫৫। কথাটা কার বৈঠকে উঠল?
উত্তর: মামার।

৫৬। অপরিচিতা গল্পে উল্লেখিত মেয়ের বাবার দেশত্যাগ করে পশ্চিমে গিয়ে বাস করার কারণ কি?
উত্তর: আর্থিক দৈন্য দেশে সমাজ রক্ষা করা দায়।

৫৭। পশ্চিমে মেয়ের বাবা কি অবস্থায় থাকেন?
উত্তর: গরিব গৃহস্থের মতো

৫৮। মামার মন ভার হওয়ার পেছনে অন্তর্নিহিত কারণটি হলো
উত্তর: বাল্যবিবাহের রীতি।

৫৯। বরের হাট মহার্ঘ কেন?
উত্তর: যৌতুকের কারণে।

৬০। হরিসের সরদ রসনার গুণে কার মন নরম হলো?
উত্তর: মামার।

৬১। সাদা স্রোতটি কিসের রূপ ধরে অনুপমকে কল্যাণীর কথা বলে যায়?
উত্তর: রাজহংসী।

৬২। অনুপম তার মাকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছিল?
উত্তর: তীর্থে।

৬৩। স্টেশনে অনুপমের কাছে শুধু কোনগুলো চিরপরিচিত মনে হয়?
উত্তর: আকাশের তারাগুলো।

৬৪। ট্রেনের ভেতর আলোর নিচে কোন রঙের পর্দা টানা?
উত্তর: সবুজ পর্দা।

৬৫। চিরকাল অনুপমের কাছে চির সত্য কি?
উত্তর: গলার স্বর।

৬৬।স্টেশনের লণ্ঠনটি কেমন ছিল?
উত্তর: একচক্ষু।

৬৭। অনুপম মনের মধ্যে কী শুনতে পেল?
উত্তর: গান।

৬৮। গাড়িতে জায়গা আছে এটি কী?
উত্তর: অনুপমের শোনা গানের ধোয়া।

৬৯। অনুপম কোন ক্লাসের টিকিটের আশায় ছিল, যেটায় ভিড় হবে না?
উত্তর: ফার্স্ট ক্লাস।

৭০। কল্যাণীরা কোন ক্লাসের গাড়িতে ছিল?
উত্তর: দ্বিতীয় ক্লাসের।

৭১। অনুপম স্টেশনে কী ফেলে আসল?
উত্তর: ক্যামেরা।

৭২। কার মানুষের সঙ্গে দূরে দূরে থাকা অভ্যাস?
উত্তর: অনুপমের মায়ের।

৭৩। কল্যাণী কোথায় থাকত?
উত্তর: কানপুরে।

৭৪। শম্ভুনাথ সেন পেশায় কী ছিলেন?
উত্তর: ডাক্তার।

৭৫। বিবাহের সময় অনুপমের বয়স কত ছিল?
উত্তর: তেইশ।

৭৬। অপরিচিতা প্রথম কবে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: প্রথম চৌধুরি সম্পাদিত সবুজ পত্র পত্রিকার ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪) কার্তিক সংখ্যায়।

৭৭। অপরিচিতা প্রথম গ্রন্থভুক্ত হয় কোন সংকলনে?
উত্তর: প্রথমে গল্পসেপ্তকে এবং পরে গল্পগুচ্ছের তৃতীয় খণ্ডে (১৯২৭)।

৭৮। অপরিচিতা গল্পটি কোন পুরুষের জবানিতে লেখা গল্প?
উত্তর: উত্তম পুরুষ।

৭৯। গল্পের অনুপম কোন সময়কার বাঙালি যুবক?
উত্তর: বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের যুদ্ধ সংলগ্ন সময়ের।


৮০। অপরিচিতা গল্পে পুরুষ চরিত্র কয়টি ও কি কি?
উত্তর: সাতটি (অনুপম, মামা, হরিশ, বিনু দাদা, স্যাকরা, শম্ভুনাথ, শম্ভুনাথের উকিল বন্ধু)।

৮১। অপরিচিতা গল্পে কোন কোন দেবীর নাম উল্লেখ আছে?
উত্তর: অন্নপূর্ণা, প্রজাপতি, পঞ্চসর, সরস্বতী।

উপসংহার

প্রিয় পাঠক, আজকে আমি আপনাদের সাথে অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং উপকৃত হতে পেরেছেন। প্রিয় পাঠক, এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url