মাসি পিসি গল্পের মূল কথা মূলভাব
মাসি-পিসি গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় কলকাতার পূর্বশা পত্রিকায় ১৩৫২ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায় (মার্চ-এপ্রিল ১৯৪৬)। পরে এটি সংকলিত হয় পরিস্থিতি (অক্টোবর ১৯৪৬) নামক গল্পগ্রন্থে। বর্তমান পাঠ গ্রহণ করা হয়েছে ঐতিহ্য প্রকাশিত মানিক-রচনাবলি পঞ্চম খণ্ড থেকে। স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পিতৃমাতৃহীন এক তরুনীর করুণ জীবনকাহিনি নিয়ে রচিত হয়ছে মাসি-পিসি গল্প। আহ্লাদি নামক ওই তরুণীর মাসি ও পিসি দুজনেই বিধবা ও নিঃস্ব।
তারা তাদের অস্তিত্বরক্ষার পাশাপাশি বিরুপ বিশ্ব থেকে আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য যে বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সংগ্রাম পরিচালনা করে সেটাই গল্পটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। অত্যাচারী স্বামী এবং লালসা-উন্মত্ত জোতদার, দারোগা ও গুন্ডা-মদমাশদের আক্রমণ থেকে আহ্লাদিকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে অসহায় দুই বিধবার দায়িত্বশীল ও মানবিক জীবন যুদ্ধ খুবই প্রশংসনীয়। দুর্ভিক্ষের মর্মস্পর্শী স্মৃতি, জীবিকা নির্বাহের কঠিন সংগ্রাম, নারী হয়ে নৌকা চালানো ও সবজির ব্যবসা পরিচালনা প্রভৃতি এ গল্পের বৈচিত্রময় দিক।
স্বামীর বাড়িতে চরম অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার আহ্লদির একমাত্র আশ্রয় মাসি-পিসি। তারা দুজনে মিলে আহ্লাদিকে আগলে রাখে। গ্রামের লোলুপ কিছু লোকদের দৃষ্টি পড়েছে তার ওপর। তাদের আক্রমন থেকে যেকোনো মূল্যে তারা আহ্লাদিকে রক্ষা করতে চায়। তাই মাসি-পিসি সেই কঠিন সময়েও ভয় না পেয়ে উপস্থিতি বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আহ্লাদিকে রক্ষা করে।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url