দেনাপাওনা গল্পের মূল কথা মূলভাব

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ থেকে দেনাপাওনা গল্পটি সংকলিত হয়েছে। নিম্নবধ্যবিত্ত পরিবারের রামসুন্দর পাঁচ পুত্র এবং এক কন্যার জনক। আদরের কন্যার প্রতাপশালী রায়বাহাদুরের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের সময় পাত্রের পিতা রায়বাহাদুর দশ হাজার টাকা নগদসহ অন্যান্য সামগ্রী বিয়ের যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। কন্যার বাপ রাজি হন। বিয়ের সময় নগদ অর্থ বাকি পড়ে যায়। শুরু হয় পিতা ও কন্যার ওপর মানসিক নির্যাতন। নিরুপমার আত্মবিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আমাদের সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাধির কাহিনী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দরদী হাতে এ গল্পের কাহিনী আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে এবং যারা যৌতুক গ্রহণ করে তাদের প্রতি এক ধরনের ঘৃণার জন্ম দেয়।

দেনাপাওনা গল্পে পাঁচ ছেলের পর যখন এক কন্যা জন্ম নিল তখন বাপ-মায়ে অনেক আদর করিয়া তাহার নাম রাখিলেন নিরুপমা। এ গোষ্ঠীতে এমন শৌখিন নাম ইতিপূর্বে কখনও শোনা যায় নাই। প্রায় ঠাকুর-দেবতার নামই প্রচলিত ছিল-গণেশ কার্তিক পার্বতী তাহার উদাহারণ। এখন নিরুপমার বিবাহের প্রস্তাব চলিতেছে। তাহার পিতা অনেক খোঁজ করেন কিন্তু পাত্র কিছুতেই মনের মতো হয় না। অবশেষে মস্ত েএক রায়বাহাদুরের ঘরের একমাত্র ছেলেকে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছেন। 

উক্ত রায়বাহাদুরের পৈতৃক বিষয়-আশয় যদিও অনেক হ্রাস হইয়া আসিয়াছে কিন্তু বনেদী ঘর বটে। বরপক্ষ হইতে দশ হাজার টাকা পণ এবং বহুল দানসামগ্রী চাহিয়া বসিল। রামসুন্দর কিছুমাত্র বিবেচনা না করিয়া তাহাতেই সম্মত হইলেন: এমন পাত্র কোনোমতে হাতছাড়া করা যাবে না। কিছুতেই টাকা জোগাড় হয় না। বাধাঁ দিয়া, বিক্রয় করিয়া, অনেক চেষ্টাতেও হাজার ছয়-সাত বাকি রইল। এ দিকে বিবাহের দিন নিকট হইয়া আসিয়াছে। অবশেষে বিবাহের দিন উপস্থিত হইল। নিতান্ত অতিরিক্ত সুদে একজন বাকি টাকাটা ধার তে স্বীকার করিয়াছিল, কিন্তু সময়কালে সে উপস্থিত হইল না। বিবাহসভায় একটা তুমুল গোলযোগ বাধিয়া গেল।

পরিশেষে বলা যায় যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দরদী হাতে এ গল্পের কাহিনী আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে এবং যারা যৌতুক গ্রহণ করে তাদের প্রতি এক ধরনের ঘৃণার জন্ম দেয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url