দুর্নীতি ও তার প্রতিকার প্রতিবেদন বিস্তারিত জেনে নিন

দুর্নীতি ও তার প্রতিকার প্রতিবেদন

প্রিয় পাঠক, আজকে আমি আপনাদের সাথে দুর্নীতি ও তার প্রতিকার প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আশা করি আপনি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আপনি যদি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে দুর্নীতি ও তার প্রতিকার প্রতিবেদন বিস্তারিত জানতে পারবেন। প্রিয় পাঠক, চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
দুর্নীতি ও তার প্রতিকার প্রতিবেদন বিস্তারিত জেনে নিন
প্রতিবেদনের শিরোনাম: দুর্নীতি ও তার প্রতিকার
প্রতিবেদন তৈরির সময়: বিকাল ৩ টা
প্রতিবেদন তৈরির তারিখ: ১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিবেদকের নাম ও ঠিকানা: মোঃ সুজন মাহমুদ, বাগমারা রাজশাহী

বিষয়: দুর্নীতির কারণ ও প্রতিকার

দুর্নীতি হলো একটি সামাজিক ব্যাধি। বর্তমান বিশ্বে কম বেশি দুর্নীতি নামক সামাজিক ব্যাধিটি রয়েছে। কিন্তু এ ব্যাধিটি বাংলাদেশে মারাত্মক রূপ নিয়েছে। কারণ, দুর্নীতি আজ এক শ্রেণির মানুষের কাছে প্রধান নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সমাজের সর্বস্তরে দুর্নীতির কালে থাবা বিস্তার লাভ করেছে। দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, দেশের অগ্রগতির চাকা পশ্চাৎমুখী হচ্ছে। আমাদের এই দুর্নীতি নামক সামাজিক ব্যাধিটি সমাজ রাষ্ট্র থেকে সরাতেই হবে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। 

দেশটি এখন স্বাধীনতার ৫০ বছরের পথ অতিক্রম করছে। কিন্তু এই চলার পথ ম্লান করে দিয়েছে দুর্নীতি কোন জায়গায় না হয়েছে? ব্যাংক ঋণ হজম, সরকারি সম্পত্তি দখল, গরীবের বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত, খাদ্য আত্মসাত, পানি ও গ্যাস চুরি, আয়কর ফাঁকি, চাকরির নামে ঘুস, টেন্ডারবাজি, চাঁদবাজি, স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি, চাকুরিতে নিয়োগ সবকিছুতেই চলছে দুর্নীতি। দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। দেশ নিমজ্জিত হচ্ছে দুর্নীতির অতল গহ্বরে। দুর্নীতির পেছনে নানা কারণ রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ যোগ্য কারণ গুলো উল্লেখ করা হলো।

১। রাজনৈতিক দলগুলো দেশের মুল চালিকা শক্তি। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই চলছে ব্যাপক দুর্নীতি। রাজনীতিবিদরা জনগণের সাথে অঙ্গীকার করে তা বরখেলাপ করে, ক্ষমতায় থাকাকালে নিজ পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে, নিজের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও দলের কর্মীদের নিজের স্বার্থে কাজে লাগায়। ঠিকাদারি, হাট-বাজারে ইজারদারি, বিভিন্ন কাজে কমিশন গ্রহণ, চাঁদা গ্রহণ, জমিদখল, সরকারি সম্পদের আত্মসাৎ ইত্যাদি করে নিজেদের আখের আখের গুছিয়ে নেয়। রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে এই অবস্থা যেন স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হয়েছে।

২। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দেখাদেখি আমলারাও কম এগিয়ে নেই। তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনৈতিক দলের মুখাপেক্ষী হন। যে দল ক্ষমতায় আসে সেই দলের আনুকুল্য করার জন্য তারা ওঠে পড়ে লাগেন। ক্ষমতা পেয়ে তারাও সেচ্ছাচারী হয়ে উঠেন। ঘুষ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মাসাৎ, অপচয়, চুরি, ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদির মাধ্যমে তারা প্রশাসনকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেন।

৩। আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্যতা ও মানুষকে দুর্নীতিপরায়ণ করে তালে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীর পক্ষে স্বাভাবিক আয় দিয়ে জীবন নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তারা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

৪। সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি বিস্তারের একটি অন্যতম কারণ হলো প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব। এখনও বাংলাদেশে ঔপনিবেশিক আমলের প্রশাসনিক কাঠামোই অনুসরণ করা হয়। যেখানে জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।

৫। অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে, ব্যবসায়ীমহল মজুতদারির মাধ্যমে দ্রব্য-বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়েও দ্রব্যমূল্যের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি করে। চোরাকারবার, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য উৎপাদন, ওজনে কম, সরকারি কর ফাঁকি দেয়া সহ এ ধরনের অর্থনৈতিক দুর্নীতিতে তারা লিপ্ত হয়েছে।

৬। শিক্ষাক্ষেত্রেও এ দেশে দুর্নীতির চিত্র কম নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ক্লাসে ভালভাবে না পড়িয়ে প্রাইভেট টিউশনি ও কোচিং সেন্টারে পাঠদান ঠিকমতো ক্লাসে না আসা, টাকার বিনিময়ে বা দলীয় ভিত্তিতে অযোগ্য লোককে নিয়োগ ও পদায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এইসব অহরহ হচ্ছে। ফলে শিক্ষার গুণগত মানেরও অবনতি ঘটছে।

৭। দুর্নীতি দমনে আমাদের সদিচ্ছার অভাবও রয়েছে। দুর্নীতি করে অর্থ উপার্জন, সরকারি সম্পদের আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য চাকরিচ্যুত বা বিচারের সম্মুখীন করার জোরালো ব্যবস্থা আমাদের দেশে নেই। দুর্নীতিবাজদের সাথে শাসকগোষ্ঠীর গোপন আঁতাত থাকায় দুর্নীতি দমনে সরকারের শিথিলতা লক্ষ্য করা যায়। যে কারণে দুর্নীতি করেও এদেশে মানুষ সহজেই পার পেয়ে যায়।

আমার মতে দুর্নীতি প্রতিকারে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেঃ

১। দুর্নীতি দমনে দুর্নীতি বিরোধী টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। এই টাস্কফোর্স দুর্নীতির সাথে জড়িত সকল প্রাসঙ্গিক ইস্যু মূল্যায়ন এবং দুর্নীতির মূলোৎপাটনের জন্য দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ নাগরিকদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করবে। টাস্কফোর্স দুর্নীতি দমনের একটি বিশদ কর্মসূচি সুপারিশ করবে।

২। দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বেশ প্রয়োজন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা থাকতে হবে। তাদের সৎ ও আদর্শবান হতে হবে। দুর্নীতিবাজদের দল থেকে বের হতে হবে। সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদেরকে নির্বাচনে মনোনয়ন দিতে হবে। প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

৩। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতি হ্রাস পাবে। এর জন্য দরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়-সমাজে এই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হলে, আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে দুর্নীতির পরিমাণ কমে যাবে।

৪। বেসরকারি, সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্যে বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে সুষম বেতন কাঠামো এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে হবে।

৫। দুর্নীতি রোধে স্বাধীন গণমাধ্যম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সমাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য অনুসন্ধান এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করে গণমাধ্যম দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।

৬। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক ও নৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মানুষের মাঝে নৈতিক মুল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। কেননা নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি কখনো দুর্নীতির আশ্রয় নিতে পারে না। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বা দুর্নীতি প্রতিকারে শুধু রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তি উদ্যোগও আরো বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। দুর্নীতি দমনে প্রয়োজন সমাজের প্রতিটি মানুষের মানসিক পরিবর্তন ও মূল্যবোধ মানবিক দিকের উচ্চকিত অবস্থান।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url