সোনালি আঁশ পাট রচনা বিস্তারিত জেনে নিন
সোনালি আঁশ পাট রচনা
সূচনা: পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকারী ফসল। বাংলাদেশ পাট রপ্তানি করে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। তাই পাটকে বাংলাদেশের সোনালি আঁশ বলা হয়। বাংলাদেশের পাট পৃথিবীর যে কোন দেশের পাট অপেক্ষা অতি উন্নতমানের।
উৎপাদন স্থান: বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মায়ানমার (বার্মা) এসব দেশে পাট উৎপন্ন হয়। পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলেও কিছু পাট উৎপন্ন হয়। পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান পাট মানের দিক থেকেও উন্নত।
চাষ প্রণালী: পাট বীজ বপনের আগে চার-পাঁচবার চাষ দিয়ে সমান করে জমি তৈরি করতে হয়। চৈত্র-বৈশাখ মাসে জমিতে সারি করে অথবা ছিটিয়ে পাট বীজ বপন করতে হয়। চারা বড় হলে আগাছা থাকলে পরিষ্কার করে সার ও কীটনাশক দিতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বা শ্রাবন মাসে পাট গাছ যখন দশ থেকে বার ফুট লম্বা হয় এবং গাছের ছাল মোটা হয়, তখন পাট গাছ কেটে আঁটি বেঁধে পানিতে জাগ দিয়ে পঁচাতে হয়। অতঃপর গাছ থেকে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে পরিষ্কার পানিতে ধূয়ে শুকিয়ে নিতে হয়। এরপর পাট বাজারজাত করা হয়।
উপকারিতা: মধ্যপাচ্যের তৈল সম্পদকে বলা হয় তরল সোনা। আর আমাদের পাটকে বল হয় সোনালী আঁশ। তরল সোনার খনি একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সোনালী আঁশের শেষ নেই। হাজার হাজার বছরেও এর উৎপাদন থেকে যাবে না। পাট থেকে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সিংহ ভাগ আহরিত হয়। চট, ব্যাগ, কার্পেট, ঝাড়ু, পাপুশ, শিকো, দড়ি, কাপড় ও ঘর সাজানোর হস্তশিল্পজাত সামগ্রী পাট হতে তৈরি হয়। বর্তমানে কাঁচা পাট গাছ থেকে কাগজের মন্ড তৈরি করা হচ্ছে। পাট খড়ি জ্বালানী, বেড়া ও পারটেক্স বোর্ড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। পাটের পাতা জমিতে পড়ে জমিকে উর্বর করে। পৃথিবীর বৃহত্তম পাট কল আদমজীসহ অন্যান্য পাটকলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে।
অপকারিতা: পাটের কিছু কিছু অপকারিতাও আছে। তবে তা উপকারের চেয়ে অনেক কম। পাট পঁচা পানিতে মশা জন্মে। এ পানিতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশকে দূষিত করে। পাটের বাজার মন্দা হলে কৃষকের ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অসাবধানতা বশত: আগুন লাগলে সর্বস্ব ধ্বংসিভূত হয়। ভিজা স্যাঁত স্যাঁত পাটে উই পোকার আক্রমণ হয়।
উপসংহার: আধুনিক প্রযুক্তির যুগে পাট তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য প্রযুক্তির যুগে পাট তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে চলছে। পাট আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান অর্থকরী ফসল। পাটের চাষ প্রক্রিয়া ও ব্যবহারের আমূল পরিবর্তন আনতে পারলে বিদেশী কৃত্রিম-তন্তুর মোকাবেলা করে আমরা বিশ্ব-বাজারে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে পারবো।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url