মতিগঞ্জের সড়কের দিকে তাকিয়ে তাহের বিস্মিত হলো কেন লালসালু উপন্যাস
মতিগঞ্জের সড়কের দিকে তাকিয়ে তাহের বিস্মিত হলো কেন
মতিগঞ্জের সড়কের উপরে একজন অপরিচিত লোককে মোনাজাতের ভঙ্গিতে দাঁড়ানো দেখে তাহের বিস্মিত হলো। শ্রাবণের শেষাশেষি নিরাকের দিনে আমনের ধানখেতে মাছ ধরতে যায় তাহের ও কাদের। একসময় তাহেরের নৌকা মতিগঞ্জের সড়কটার কাছে এসে পড়ে। তখন তাহের দেখে মহিগঞ্জের সড়কের উপরেই একটি অপরিচিত লোক আকাশ পানে হাত তুলে মোনাজাতের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। শীর্ণ মুখে ক’গাছি দাড়ি, চোখ নিমীলিত। সময় বয়ে চলে কিন্তু লোকটির চেতনা নেই। নিরাক পড়া আকাশ যেন তাকে পাথরের মূর্তিতে রূপান্তরিত করেছে। লোকটির এরূপ দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গিই তাহেরকে বিস্মিত করেছে।
মজিদ আকাশের পানে হাত তুলে মোনাজাতের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল কেন
অন্যদের কাছে নিজেকে সৃষ্টিকর্তার খাস বান্দা প্রমাণ করার জন্য মজিদ আকাশের পানে হাত তুলে মোনাজাতের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল। লালসালু উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ মহব্বতনগরে প্রবেশ করে নাটকীয়ভাবে। তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে স্বার্থোদ্ধার করা, ধর্মব্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেকে শিকড়হীন বৃক্ষ থেকে বটগাছে পরিণত করা। তাই সে সবার কাছে নিজেকে ধার্মিক প্রমাণের জন্য আকাশের পানে হাত তুলে মোনাজাতের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url