গল্পে মাসি-পিসি বঁটি আর কাটারি হাতে ঘর থেকে বের হয়ে আসে কেন
কানাই চৌকিদার, গোকুল আর তাদের দলবলকে বাড়ি থেকে তাড়াতে মাসি-পিসি বঁটি আর কাটারি হাতে ঘর থেকে বের হয়ে আসে। গোকুলের হুকুমে কানাই চৌকিদার মাসি-পিসিকে কাছারিবাড়িতে নিতে আসে। মাসি-পিসি বুঝতে পারে তারা কাছারিবাড়িতে গেলেই ওতপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা আহ্লাদিকে ধরে নিয়ে যাবে। তাদের এই বাসনাকে মাসি-পিসি সফল হতে দেবে না বলে পরিকল্পনা করে। আর এ কারণে গোকুলের লোকদের ভয় দেখিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে তারা বঁটি আর কাটারি হাতে ঘর থেকে বের হয়ে আসে।
স্বামীর বাড়িতে চরম অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার আহ্লদির একমাত্র আশ্রয় মাসি-পিসি। তারা দুজনে মিলে আহ্লাদিকে আগলে রাখে। গ্রামের লোলুপ কিছু লোকদের দৃষ্টি পড়েছে তার ওপর। তাদের আক্রমন থেকে যেকোনো মূল্যে তারা আহ্লাদিকে রক্ষা করতে চায়। তাই মাসি-পিসি সেই কঠিন সময়েও ভয় না পেয়ে উপস্থিতি বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আহ্লাদিকে রক্ষা করে।
বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মাসি-পিসি ছোটগল্পটিতে সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরেছেন। স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পিতৃমাতৃহীন এক তরুণীর করুণ জীবনকাহিনী এ গল্পের অন্তর্গত বিষয়। আহ্লাদি নামক এই তরুণীর মাসি ও পিসি দুজনই বিধবা। তারা তাদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিরূপ সমাজব্যবস্থা থেকে আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য যে বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছে তা এ গল্পের তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url