বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পুরোটা লাইন
প্রিয় পাঠক, আজকে আমি আপনাদের সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পুরোটা লাইন উপস্থাপন করবো। আশা করি আপনি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আপনি যদি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পুরোটা জানতে পারবেন। প্রিয় পাঠক, চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হলো আমার সোনার বাংলা, যা রচনা করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই সংগীতটি প্রথম গাওয়া হয় ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়, যা বাংলার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে রচিত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সংগীতটির কথায় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ শস্যক্ষেত্র, নদী-নালা এবং মানুষের আবেগময় সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। এটি শুধু একটি গান নয়, বরং দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে গভীরভাবে অনুরণিত হয়।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নাম
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২৫ শে বৈশাখ ১২৬৮ সালে ( ৭ই মে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্নোষ ঘটে। মাত্র পনেরো বছর বয়সে তাঁর বনফুল কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ইংরেজী Gitanjali: Song Offering সংকলনের জন্য এশীয়দের মধ্য সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বইগুলো
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বইগুলো হল: বৌ-ঠাকুরাণীর হাট (১৮৮৩), রাজর্ষি (১৮৮৭), চোখের বালি (১৯০৩), নৌকাডুবি (১৯০৬), প্রজাপতির নির্বন্ধ (১৯০৮), গোরা (১৯১০), ঘরে বাইরে (১৯১৬), চতুরঙ্গ (১৯১৬), যোগাযোগ (১৯২৯), শেষের কবিতা (১৯২৯), দুই বোন (১৯৩৩), মালঞ্চ (১৯৩৪) ও চার অধ্যায় (১৯৩৪)। বৌ-ঠাকুরাণীর হাট ও রাজর্ষি ঐতিহাসিক উপন্যাস।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য রত্ন, সাহিত্যজীবনের শুরুতে নিজের লেখা প্রকাশের জন্য বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর ছদ্মনামগুলির মধ্যে অন্যতম হলো "ভানুসিংহ।" ১৮৭৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি "ভানুসিংহ" নামটি ব্যবহার করে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশ করেন। এই ছদ্মনামটি ব্যবহার করে তিনি এমন এক ভাবধারার কবিতা রচনা করেছিলেন, যা পাঠকদের মনে করিয়ে দিত প্রাচীন বৈষ্ণব পদাবলীর ধারা। "ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী" নামে তাঁর লেখা এই কাব্যগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।
ছদ্মনাম ব্যবহারের পেছনে রবীন্দ্রনাথের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের পরিচয় গোপন রাখা। সেই সময় তিনি খুবই তরুণ ছিলেন এবং সাহিত্যজগতে নিজেকে পরীক্ষা করার জন্য তিনি এই ছদ্মনাম গ্রহণ করেন। "ভানুসিংহ" নামে লেখা পদগুলো পাঠকদের মনে এমন একধরনের প্রাচীন রোমান্টিকতার আবেশ তৈরি করেছিল যে, অনেকেই ভেবেছিলেন এগুলো প্রকৃতপক্ষে কোনো প্রাচীন কবির রচনা। এই সৃষ্টিশীলতা রবীন্দ্রনাথের প্রতিভার একটি অনন্য দিককে প্রকাশ করে।
তবে "ভানুসিংহ" ছদ্মনাম ছাড়াও তিনি মাঝে মাঝে "রবীকুমার," "সুনীল," এবং আরও কিছু নাম ব্যবহার করেছেন। তবে ভানুসিংহ ছদ্মনামের মধ্যেই তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভা এবং বৈচিত্র্যের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে। পরবর্তীতে যখন তাঁর প্রকৃত পরিচয় জানা যায়, তখন পাঠকরা বিস্মিত হন যে এই তরুণ কবি বাংলা সাহিত্যের নতুন এক অধ্যায় শুরু করেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম ব্যবহার কেবল একটি সাহিত্যিক প্রয়োগই নয়, এটি তাঁর সৃষ্টিশীলতার গভীরতারও প্রমাণ। তিনি কেবল নিজের নামের জন্য নয়, বরং সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসার জন্য এবং বাংলা ভাষার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের জন্য এই ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ছদ্মনামের অন্তরালে যে প্রতিভা ছিল, তা পরবর্তীকালে সমগ্র বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পুরোটা লাইন
- আমার সোনার বাংলা
- আমি তোমায় ভালবাসি
- চিরদিন তোমার আকাশ
- চিরদিন তোমার আকাশ
- তোমার বাতাস
- আমার প্রাণে,
- ওমা আমার প্রাণে বাজায় বাঁশী।
- সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।
- ওমা ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে
- মরি হায়
- হায় রে ওমা
- ফাগুনে তোর আমার বনে ঘ্রানে পাগল করে ।
- ওমা অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে
- কি দেখেছি
- আমি কি দেখেছি মধুর হাসি
- সোনার বাংলা
- আমি তোমায় ভালবাসি
- কি শোভা কি ছায়া গো
- কি স্নেহ কি মায়া গো
- কি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে
- নদীর কূলে কূলে
- মা তোর মুখের বাণী
- আমার কানে লাগে সুধার মতো
- মরি হায় , হায় রে মা তোর
- মুখের বাণী
- আমার কানে লাগে সুধার মতো
- মা তোর বদন খানি মলিন হলে
- আমি নয়ন
- ওমা আমি নয়ন জলে ভাসি
- সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি ।
- আমার সোনার বাংলা,
- আমি তোমায় ভালোবাসি।
জাতীয় সংগীত কোন তালে গাওয়া হয়
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত "আমার সোনার বাংলা" সাধারণত কাহারবা তালে (৮ মাত্রার তাল) গাওয়া হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুরারোপিত এই গানটি গাওয়ার সময় শুদ্ধ সুর, পরিমিত লয় এবং সমবেতকণ্ঠের গাম্ভীর্য বজায় রাখা হয়। গানটির প্রথম দশ পঙ্ক্তি জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়া হয়
জাতীয় সংগীতের তাৎপর্য
জাতীয় সংগীত একটি দেশের স্বাধীনতা, ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত আমার সোনার বাংলা আমাদের দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগকে প্রকাশ করে। এটি রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যার কথায় দেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং মানুষের মমত্ববোধ সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। জাতীয় সংগীত আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করে, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগের প্রেরণা দেয়। বিভিন্ন জাতীয় দিবস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এই সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা আরও দৃঢ় হয়। তাই জাতীয় সংগীত শুধু একটি গান নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয় ও গৌরবের প্রতীক।
উপসংহার
প্রিয় পাঠক, আজকে আমি আপনাদের মাঝে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পুরোটা এই পোস্টে উপস্থাপন করেছি। আশা করি আপনি এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং উপকৃত হতে পেরেছেন। প্রিয় পাঠক, এই পোস্টটি পুরো মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url